
বগুড়ার ধুনটে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জোসনা বেওয়া (৫৪) নামে এক বিধবা নারীকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার নিজস্ব সম্পত্তিতে যাতায়াতের পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও করেছেন তিনি। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জোসনা বেওয়ার স্বামী মৃত শাজাহান আলীর পৈতৃক সম্পত্তির ভোগদখল নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে তিনি বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি ১৮৮ পি/২০২৬ (ধুনট) নম্বরে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—মৃত আব্দুল জোব্বার তালুকদারের ছেলে মো. আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার (৬৫), মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে চঞ্চল তালুকদার (৪৫), মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মো. আব্দুল লতিফ তাং (৪৬) এবং রজীব উদ্দিন তালুকদারের ছেলে আব্দুল হামিদ (৪২)।
জোসনা বেওয়ার অভিযোগ, আদালতে বিচারাধীন মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১০ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধুনট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের দুইজন সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি মাপজোখ করেন। মাপজোখ শেষে সার্ভেয়াররা চলে যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত চার ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। তিনি গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া তার সম্পত্তিতে যাতায়াতের পথে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন জোসনা বেওয়া। এতে নিজের জমিতে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে না পেরে তিনি ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘটনার পর থেকে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তারা হলেন—মিহিন তালুকদার (৩৮), সেলিম রেজা তালুকদার (৬৫), মাসরাফি (২৩) ও মোছা. আলেয়া খাতুন (৫৫)। এ ছাড়া আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
জোসনা বেওয়া বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যেই আমাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে আমি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও নিকট আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করার কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা তফসিলভুক্ত সম্পত্তি বগুড়া জেলার ধুনট থানার চালাপাড়া মৌজায় অবস্থিত। এর জে.এল. নম্বর ৪৫। জমিগুলো আরএস খতিয়ান নম্বর ২৫৩৩ ও ১৮০৮-এর অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে দাগ নম্বর ৫২২৮-এ ১৩ শতক এবং দাগ নম্বর ৫২২৯-এ ১৪ শতক জমি রয়েছে। সব মিলিয়ে সম্পত্তির পরিমাণ ২৭ শতক ধানী জমি।
জোসনা বেওয়া অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুনার রশিদ বলেন, বিধবার অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত চারজনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন