
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সোহাগ মিয়া (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোহাগ দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের টেবলাই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। রবিবার (৩১ মে) দুপুরে স্থানীয় পেইক্কার হাওর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, একই গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে সোহাগের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মেয়ের পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় উভয় পরিবারে চলছিল বিরোধ। শেষমেষ মেয়ের পরিবারের হাতে লাঞ্চিত ও প্রহৃত হয় সোহাগ। এ ঘটনায় নিজেকে সামলাতে না পেরে অবশেষে আত্মহননের পথ বেছে নেয় সোহাগ। শনিবার (৩১ মে) সকালে স্থানীয় পেইক্কার হাওরে গরু চরাতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর হাওরের একটি গাছের মগডালে সোহাগের মরদেহ ঝুলছে বলে জানতে পারে তার পরিবার।
পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বটু ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সোহাগের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এদিকে নিহতের মা শজিফা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমার একমাত্র ছেলে সোহাগ গ্রামের একটি মেয়েকে ভালোবাসত। তাই আমরা একাধিকবার বিয়ের প্রস্তাব দিলেও মেয়ের পরিবার তাতে রাজি না হয়ে উল্টো আমার ছেলেকে মারধরও লাঞ্চিত করে। এরই জের ধরে রবিবার সকালে হাওরে গরু চরাতে গিয়ে আমার ছেলে সোহাগ আর বাড়ি ফেরেনি। পরে জানতে পারি, তার মরদেহ গাছের ডালে ঝুলছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। নির্মম এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মন্তব্য করুন