
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর পঞ্চায়েতি কবরস্থানে গড়ে তোলা গয়াছ মিয়ার কথিত ‘আস্তানা ঘরে’ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে আস্তানা থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ দায়িত্বে আস্তানাটি ভেঙে কবরস্থান থেকে সরে যাওয়ার জন্য মূল অভিযুক্ত গয়াছ মিয়াকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলার এক জামিনপ্রাপ্ত আসামি কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট করে সেখানে আস্তানা গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই আস্তানায় নানা রকম অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসেবীদের আড্ডা চলছিল, যা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
এই জনদুর্ভোগ ও অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালীন আস্তানা ঘর তল্লাশি করে কুড়াল, লোহার রড ও কাঁচিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আস্তানাটি উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গয়াছ মিয়াকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আস্তানা ছেড়ে চলে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আস্তানা থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে পরবর্তীকালে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে থাকা বাজিতপুর গ্রামসহ পুরো এলাকাজুড়ে স্বস্তি নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই সাহসিক পদক্ষেপের জন্য সাংবাদিক, সংবাদপত্র ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা কামাল উদ্দিন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। আস্তানাটির কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সাহসী সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
মন্তব্য করুন