
বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলা ও শহরজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক, অপরাধ, ডাকাতি, নারী নির্যাতন, প্রত্নসম্পদ পাচার এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে একের পর এক গ্রেফতার ও সাজা হলেও অপরাধ প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মোঃ রুবেল তালুকদার (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। মঙ্গলবার (১২ মে) পরিচালিত অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফেরদৌসের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ডিএনসি জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শিশু ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি আব্দুল কাদের ফকির (৭০) কে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে কথিত “কোবরা বাহিনীর” লিডার সুমনকে একটি ধারালো চাকুসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তদন্ত করা হচ্ছে।
শুধু মাদক বা সন্ত্রাস নয়, অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে শহর ও আশপাশের এলাকায়। বগুড়ার বারোপুর ব্রিজ সংলগ্ন ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত বাড়িকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত সেখানে সন্দেহজনক নারী-পুরুষের যাতায়াত বাড়ছে, যা এলাকার সামাজিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অভিভাবকরা বলছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তরুণ সমাজের ওপর। যদিও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, জেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার (১৩ মে) মূর্তি পাচারের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটির ওজন প্রায় ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম এবং এটি অত্যন্ত মূল্যবান প্রত্নসম্পদ।
বগুড়া শহরের স্টেশন রোড এলাকার বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকেও ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করেছে ডিএনসি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া গাঁজা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত ডাকাতি মামলায় তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একের পর এক অপরাধ, মাদক বিস্তার, প্রত্নসম্পদ পাচারের চেষ্টা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে বগুড়াবাসীর মধ্যে। সচেতন মহল বলছে, কেবল অভিযান নয় – অপরাধের মূল উৎস চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, সামাজিক সচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন