সর্বশেষ
||বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ববিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা||লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা: মরদেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা, ওসি বরখাস্ত||বরগুনায় ডিবির জালে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী||সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে সন্ধ্যার পর ঘরবন্দি গ্রামবাসী||অবমুক্ত হলো নবাব ফয়েজুন্নেছার বাড়ির প্রবেশপথ||আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে কুমিল্লার সেতু, ভিড় করছেন ফুটবলপ্রেমীরা||শ্রেষ্ঠ ইউএনও হিসেবে সম্মাননা পেলেন ঠাকুরগাঁও সদরের খাইরুল ইসলাম||হোসেনপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদ||জাতীয় মঞ্চে প্রশংসিত রাবি সায়েন্স ক্লাবের সায়েন্স শো||কুয়াকাটা উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে স্থানীয় ‘কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরাম’ -এর তিন দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

কৃষিখাতে ধারাবাহিক লোকসানের মুখে কৃষক, গ্রামীন অর্থনীতিতে ধস নামার আশংকা

Share this news with

দেশের কৃষিখাতে অব্যাহত লোকসান গুনায় গ্রামীন অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। উৎপাদিত ধান, আলু, পেঁয়াজ ও তামাকে ন্যায্যমুল্য না পাওয়ায় দিশেহারা কৃষক। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। গ্রামীন অর্থনীতির মেরুদন্ড হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য। কৃষি উৎপাদনে কৃষক সিরিজ লোকসান গুনায় গ্রামীন অর্থনিতীতে ধস নেমেছে, যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর।

কৃষকদের অভিযোগ— সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু ফসল বিক্রির সময় তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ফলে ঋণ করে চাষাবাদ করা অনেক কৃষক এখন দিশেহারা।

বাজার অব্যবস্থাপনার কারনে রবি মৌসুমে সার সংকটের মধ্যে দ্বিগুন দামে সার ক্রয় করে আলু উৎপাদন করে কৃষক লোকসানের মুখে পড়ে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ১৩ থেকে ১৬ টাকা, বাজারে তা ভরা মৌসুমে বিক্রি হয়েছে ৮ টাকা দরে।প্যাকেজিং এবং সংরক্ষন খরচ মিটিয়ে প্রতিকেজি আলু ১৯ থেকে ২০টাকা দর পরে,বর্তমান বাজারে তা ১৪টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।পরিসংখান অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় দেশের উৎপাদিত আলুর ৩৪’২৭শতাংশ উৎপাদিত হয়ে থাকে। মোটাদাগে উত্তরাঞ্চলের কৃষক আলুতে লোকসান গুনে।

আলুর পাশাপাশি পেয়াঁজ চাষীরা এবার বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। আবহাওয়া এবার অনুকুলে থাকায় পেয়াঁজের বাম্পার ফলন হয়। কিন্তু মুড়িকাটা পেয়াঁজের বাজার নিম্নমুখী থাকায় কৃষক লোকসানে পড়ে। প্রতিমন পেয়াঁজ ভরা মৌসুমে ২০০/৩০০টাকা বিক্রি করতে হয়। এতে পেয়াঁজ চাষীদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

দেশের হাওর অঞ্চলের পাশাপাশি উত্তরের ০৮ জেলায় ধান কাটার মৌসুম চলছে। মাঠের ধান বাড়ির উঠোনে পৌছানো, ধান মাড়াই, ধান শুকানো সব কিছুই জোড়েসোরে চললেও মুখে হাসি নেই কৃষকের। ধানের মুল্য নিম্নমুখী হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের।বৈশ্বিক অবস্থার পেক্ষাপটে এবার ডিজেল, সার প্রাপ্তিতে কৃষককে ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেই সাথে কৃষি উপকরনের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়েছে। বাজা। বাজার মনিটরিং না থাকায় কৃষক পর্যায়ে ধানের বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় কৃষক লাভবান হতে পারছেনা।

গত ৩রা মে থেকে সরকার ধান ক্রয় শুরু করলেও বাজারে তা প্রভাব পড়েনি। এবছর বোরা প্রতি কেজি ৩৬টাকা নির্ধারন করেছে সরকার। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের সুযোগ থাকলেও নানা জটিলতায় কৃষকের উৎসাহ নেই সরকারের কাছে ধান বিক্রয়ে।

উত্তরাঞ্চলের হাট বাজার ঘুরে জানা যায় প্রতিমন ধান ৮০০থেকে ৮৫০টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে ধানের মুল্য কম থাকার পিছনে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ব এবং সরকারের বাজার ব্যাবস্থার ত্রুটি, ফলে ধান চাষীদের হতাশা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে উত্তরাঞ্চল অর্থনিতীর মেরুদন্ড হচ্ছে অর্থকারী ফসল তামাক চাষাবাদ। তামাক কে ঘিরে উত্তরাঞ্চলে ছোট বড় বিড়ি ও সিগারেট শিল্প গড়ে উঠেছে। রয়েছে শতাধিক তামাক ক্রয় কেন্দ্র। তামাক চাষে কোম্পানিগুলো কৃষকদের মাঝে প্রনোদনার সার, বীজ, ঔষধ সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সুবিধা প্রদান করে থাকে। ফলে বিগত বছর গুলোয় এই অঞ্চলের কৃষক তামাক চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ায় তামাক উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্রামীন অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে।

তামাক চাষে কৃষকের সংখ্যা বাড়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। প্রতিবছর তামাক জাত পন্যের দাম দ্বিগুন হলেও কৃষকের তামাকের দর নিয়ে কোম্পানিগুলোর চলছে নানা টালবাহানা। ফলে এবছর যাদের কোম্পানির কার্ড রয়েছে কৃষক পর্যায়ে তাদের নির্ধারিত পরিমানের তামাক সংগ্রহ করছে। এতে কার্ড বিহীন তামাক চাষীরা তামাকের অর্ধেক মুল্য পাচ্ছেন না। এতে এক শ্রেনীর মধ্যস্বত্যভোগী সুযোগ নিয়ে কোম্পানি মুল্যের অর্ধেক দামে তামাক ক্রয় করছেন। এতে প্রান্তিক তামাক চাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এবছর তামাক কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে চাষীদের পকেট কাটছেন এমন অভিযোগ তামাক চাষীদের। কোম্পানিগুলো তামাক উৎপাদনে প্রলুব্ধ করে উৎপাদনের পরে অনাগ্রহ দেখিয়ে কৃষকদের সাথে প্রতারনা করছেন এমন দাবী কৃষকের।এই অব্যাবস্থাপনায় কৃষক হতাশ হয়ে উৎপাদিত তামাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানালেও উপর মহলের ভ্রুক্ষেপ আসেনি।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি বাজার তদারকি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ বাড়ানো জরুরি। না হলে কৃষকের লোকসান আরও বাড়বে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়, “সারা বছর কষ্ট করে চাষ করি, কিন্তু ফসল বিক্রি করে লাভ তো হয়ই না, উল্টো ঋণের বোঝা বাড়ছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এতে গ্রামীন অর্থনিতীতে ধস নামার আশংকা রয়েছে।

Share this news with

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ববিতে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা: মরদেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা, ওসি বরখাস্ত

বরগুনায় ডিবির জালে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী

সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে সন্ধ্যার পর ঘরবন্দি গ্রামবাসী

অবমুক্ত হলো নবাব ফয়েজুন্নেছার বাড়ির প্রবেশপথ

আর্জেন্টিনার রঙে সেজেছে কুমিল্লার সেতু, ভিড় করছেন ফুটবলপ্রেমীরা

শ্রেষ্ঠ ইউএনও হিসেবে সম্মাননা পেলেন ঠাকুরগাঁও সদরের খাইরুল ইসলাম

হোসেনপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

জাতীয় মঞ্চে প্রশংসিত রাবি সায়েন্স ক্লাবের সায়েন্স শো

কুয়াকাটা উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে স্থানীয় ‘কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরাম’ -এর তিন দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

১০

বরগুনার আমতলীতে মহামারী হাম আক্রান্তে শিশু আদিল এর মৃত্যু

১১

সংগ্রামের মাঠে গড়ে ওঠা নেতৃত্ব শেরপুরের ইমরান খান

১২

কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার ব্রিজে ফাটল!

১৩

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

১৪

স্ত্রীকে রেখে স্বামী পলাতক: মান্দায় নগদ টাকা ও বিপুল ট্যাপেন্টাডলসহ নারী মাদক কারবারি আটক

১৫

নওগাঁর ধামইরহাটে মাদকসেবীদের আস্তানায় পুলিশের অভিযান, ৭ জন গ্রেফতার

১৬

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ড: ১১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা, আসামি গ্রেফতারে অভিযান

১৭

নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টা ক্ষেত থেকে শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

১৮

নিখোঁজের একদিন পর খালে মিলল শিশু ওয়াহিদুলের মরদেহ, এলাকায় শোকের ছায়া

১৯

জাবিতে জুলাই হামলা: বাধ্যতামূলক অবসরসহ শাস্তি ১১ শিক্ষক-কর্মকর্তার, অব্যাহতি ৮ জনের

২০