
কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলস্টেশনে খুলনাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেসে দুই যাত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ট্রেনের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠার পর বিক্ষুব্ধ যাত্রী, স্বজন ও স্থানীয়রা ট্রেনটি অবরোধ করে রাখেন। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস কুষ্টিয়া কোর্ট রেলস্টেশনে পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে।
আহত দুই যাত্রী হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা শফিউল্লাহ ও আব্দুর রহিম। হামলার পর সহযাত্রীরা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ট্রেনের ‘খ’ বগিতে ওঠাকে কেন্দ্র করে ভেতরে থাকা এক কর্মচারীর সঙ্গে দুই যাত্রীর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই কর্মচারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আহতদের স্বজন, যাত্রী ও স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ট্রেনটি আটকে রেখে হামলাকারীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রেনের লোকোমাস্টার ও ট্রাভেলিং টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
কুষ্টিয়া কোর্ট রেলস্টেশনের ইনচার্জ ইতি জানান, হট্টগোলের খবর পেয়ে বাইরে এসে তারা জানতে পারেন, ট্রেনের এক কর্মচারীর হামলায় দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। পরে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তিনি আরও জানান, আহত যাত্রীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর ট্রেনে কর্মরত ওই অভিযুক্ত কর্মচারীর পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন