
কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরীতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে সড়ক, ড্রেন ও কারখানার আঙিনা। কোথাও কোথাও একদিনের বৃষ্টির পানি জমে থাকছে টানা এক সপ্তাহ। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে লোকসান, দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো শ্রমিক-কর্মচারী ও ব্যবসায়ী।
বর্ষা এলেই কুমিল্লা বিসিক যেন এক স্থায়ী জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হয়। সড়কে জমে থাকা ময়লা পানির কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিল্পাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক, পরিবহনচালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঁচামাল আনা-নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি কমছে ব্যবসায়ীদের আস্থাও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এই জলাবদ্ধতা সমস্যা এখন শিল্প উৎপাদনের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে শিল্প নগরীর পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
বিসিক ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সালে ৫৪ দশমিক ৩৫ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী। বর্তমানে এখানে ১৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৭টি চালু রয়েছে। গত অর্থবছরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন হয়েছে। সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা।
সরেজমিন দেখা যায়, বিসিক কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়ক ময়লা পানিতে ডুবে আছে। নারী-পুরুষ কর্মজীবীরা বাধ্য হয়ে সেই পানি মাড়িয়েই কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। বিসিকে প্রবেশের ১ নম্বর সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সেটি অনেকটা গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার মতো মনে হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পাকা সড়কের অধিকাংশ অংশ ভেঙে মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে সর্বশেষ এ সড়কের সংস্কার হয়েছিল।
শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন ড্রেন এখন প্রায় অকার্যকর। কোথাও কচুগাছ জন্মে ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও জমে আছে ময়লা পানি। ৩ নম্বর সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। খন্দকার ফ্লাওয়ার মিল, হাশেম ইন্ডাস্ট্রিসহ কয়েকটি কারখানায় পানি ঢুকে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তরুণ উদ্যোক্তা পরিষদের ট্রেজারার রিয়াজ আহমেদ রনি বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকার পানি বিসিক হয়ে নেমে আসে। কিন্তু পানি বের হওয়ার জন্য কার্যত মাত্র একটি আউটলেট রয়েছে। আরেকটি আউটলেট তৈরি করা গেলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যেত।
বিসমিল্লাহ মুড়ি ফ্যাক্টরির অ্যাকাউন্ট অফিসার তাফসীর আহমেদ মাহি বলেন, ‘অল্প বৃষ্টিতেই কারখানার সামনে পানি জমে যায়। অনেক সময় পানি কারখানার ভেতরে ঢুকে ধান-চাল নষ্ট করে দেয়। পানি জমে থাকলে ক্রেতারাও আসতে চান না। এতে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।’
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চল থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, সড়ক উন্নয়ন ও বিকল্প পানি নিষ্কাশন পথ তৈরি না হওয়ায় প্রতিবছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. মুনতাসীর মামুন বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকার পানি বিসিক শিল্প নগরী হয়ে নামে। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিসিক এলাকার অধিকাংশ সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারের প্রাক্কলন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন