
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম—বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার অমর কণ্ঠস্বর। তাঁর জীবনের স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর আজও বহন করছে সেই ইতিহাসের গন্ধ।
১৯২১ সালে প্রথম কুমিল্লায় আসেন নজরুল ইসলাম। বন্ধু আলী আকবর খানের সঙ্গে তিনি কিছুদিন শহরে অবস্থান করার পর দৌলতপুর গ্রামে যান। সেখানে আলী আকবর খানের বাড়িতেই তিনি কাটান প্রায় ৭৩ দিন। এই সময়টিতে গ্রামবাংলার প্রকৃতি, পুকুরপাড়, আমগাছের ছায়া ও নির্মল পরিবেশে তিনি রচনা করেন বহু গান ও কবিতা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দৌলতপুরে অবস্থানকালে নজরুল শুধু সাহিত্যচর্চাই করেননি, গ্রামের তরুণদের গান ও নৃত্য শেখাতেন। এখানেই তাঁর পরিচয় হয় সৈয়দা খাতুনের সঙ্গে, যাকে তিনি ভালোবেসে নাম দেন ‘নার্গিস’। তাঁদের সম্পর্ক পরবর্তীতে ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। ১৯২১ সালের ১৮ জুন তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
দৌলতপুরের সেই বাড়িটি আজও নজরুল স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও সময়ের সাথে কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে, তবুও কিছু স্মৃতিচিহ্ন—যেমন বাসরঘরের কাঠের আসবাব, খাট, পালঙ্ক, বালিশ ও সিন্ধুক—এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।
নজরুলের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এখানে গড়ে উঠেছে ‘নার্গিস-নজরুল বিদ্যানিকেতন’, ‘নজরুল নিকেতন পাঠাগার’, ‘নজরুল মঞ্চ’ এবং ‘নজরুল তোরণ’। স্থানীয়রা মনে করেন, দৌলতপুরকে একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতীর্থ হিসেবে গড়ে তুললে এই ঐতিহাসিক স্মৃতি আরও সমৃদ্ধভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
নার্গিস-নজরুল বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “দৌলতপুরে কবি নজরুলের বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখানে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন।”
নার্গিস বংশের উত্তরসূরি বাবলু আলী খাঁন জানান, স্মৃতিগুলো রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন, না হলে ভবিষ্যতে এসব ইতিহাস হারিয়ে যেতে পারে।
এদিকে জেলা প্রশাসক জানান, দৌলতপুরে জাতীয় কবির স্মৃতি সংরক্ষণে ইতোমধ্যে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুমিল্লায় শুরু হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন