
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পিবিআই।
তদন্ত সংস্থাটি জানায়, তনুর পোশাক থেকে নেওয়া ডিএনএ নমুনায় আগের তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও এক পুরুষের ডিএনএ মিলেছে। রোববার দিবাগত রাতে পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “আগে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার তথ্য ছিল। এখন ডিএনএ ল্যাব থেকে জানানো হয়েছে, আরও একজন পুরুষের রক্তের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এতে অজ্ঞাতনামা একজনের ডিএনএ প্রোফাইল রয়েছে।”
পিবিআই জানায়, গত ৬ এপ্রিল তিন সন্দেহভাজন—সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ ক্রস-ম্যাচের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের আদেশে ২১ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুরকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ওইদিনই আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ায় মামলায় অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও তদন্ত তদারকি করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “এখন নতুন একজনের ডিএনএ পাওয়ায় সন্দেহভাজনদের সঙ্গে আরও তিনজনের ডিএনএ ম্যাচ করাতে হবে। সন্দেহের তালিকায় থাকা বাকিদের খোঁজ চলছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। পরদিন বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
প্রথমে থানা, ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি। ২০১৭ সালে সিআইডি জানায়, তনুর পোশাক থেকে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়া গেছে। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন