
কুড়িগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক দর্শক সমাগমের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। টুর্নামেন্টের ফাইনালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কুড়িগ্রাম পৌরসভা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় দুই দলের মধ্যে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হয়। ম্যাচজুড়ে উভয় দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পৌরসভা দল। খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক।
খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলা মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে। কুড়িগ্রামের তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ দেখে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কুড়িগ্রামের এই মাঠ থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। টুর্নামেন্ট সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
স্টেডিয়ামের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি
টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে উৎসবের আমেজ থাকলেও কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
তাদের অভিযোগ, এত বড় একটি জেলায় স্টেডিয়ামে দর্শকদের বসার জন্য স্থায়ী গ্যালারি না থাকায় হাজারো মানুষকে রোদে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করতে হয়েছে। নারী দর্শকদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ বসার ব্যবস্থা না থাকায় তারাও বিড়ম্বনায় পড়েন।
এ ছাড়া খেলোয়াড়দের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য মানসম্মত ড্রেসিংরুম কিংবা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। বড় ধরনের ক্রীড়া আয়োজন ও খেলোয়াড়দের অনুশীলনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা।
পুরস্কার ও অতিথিদের উপস্থিতি
টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন কুড়িগ্রাম পৌরসভা দল পেয়েছে ট্রফি ও এক লাখ টাকা প্রাইজমানি। রানার্সআপ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা দল পেয়েছে ট্রফি ও ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ও বিশেষ সম্মাননার ব্যবস্থা রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফিজার রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় কোহিনুর রহমান ও মোসাব্বের হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব।
ফাইনাল ম্যাচে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কুড়িগ্রামে ফুটবলের জনপ্রিয়তার বিষয়টি আবারও তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের অবকাঠামো উন্নয়ন ও খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।
মন্তব্য করুন