
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ মাগুড়া ইউনিয়নের উত্তর সিঙ্গেরগাড়ি এলাকার ময়েন উদ্দিনের ছেলের বিয়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম বয়সীমা না মানা এবং অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে নকল কাবিননামা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী মর্তুজার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সম্প্রতি নাছরিন নামে এক নাবালিকা কনের বিয়ে রেজিস্ট্রির জন্য কাজী মর্তুজার কাছে যাওয়া হয়। বয়স কম হওয়ায় বৈধভাবে রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। কিন্তু পরে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে তিনি নকল কাবিননামা তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নকল দলিলের মাধ্যমে বিয়েটি বৈধ দেখানো হয়। এতে মেয়ে ও তার পরিবার ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ন্যূনতম বয়সের নিচে বিয়ে দেওয়া এবং জাল দলিল তৈরি করা উভয়ই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এলাকাবাসীরা জানান, বাল্যবিবাহ রোধে সরকার কঠোর আইন করলেও কিছু অসাধু কাজী অর্থের লোভে এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। তাদের দাবি, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এবিষয়ে নাসরিন বলেন, আমি ডাল চুলায় বসে দিয়ে একটু বাহিরে গিয়েছিলাম এদিকে এসে দেখি ডালে পানি দিয়েছে আমার ননদ। আমি বললাম কেন ডালে পানি দিয়েছেন সে আমার উপর চড়া হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার স্বামীর আমার সাথে ঝগড়াসহ মারপিট করে। পরের দিন আমি একাই আমার বাসায় চলে আসি। এরপর থেকে আমার খোজ খবর নেয়নি। পরে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি।
৯নং মাগুড়া ইউনিয়নের কাজী মর্তুজার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার নাবালক-নাবালিকার বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে পারেন না। জাল কাবিননামা তৈরি দণ্ডবিধি ৪৬৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি সত্য প্রমানিত হলে কাজী মর্তুজার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন