
বান্দরবানের রুমা উপজেলার রুমা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম লেকটংশে পাড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় সেখানে এখনো কোনো চিকিৎসক বা মেডিকেল টিম পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হাসন।
নিহত শিশুরা হলো, শৈলুং খুমীর ৯ বছর বয়সী ছেলে পলি খুমী এবং তয়সাং খুমীর ৬ বছর বয়সী মেয়ে নাতয়ই খুমী।
স্থানীয়দের দাবি, লেকটংশে পাড়ায় এখনো অনেক শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। নিহত শিশুদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে চিকিৎসার অভাবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হাসন বলেন, দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোতে হামের উপসর্গের প্রকোপ বাড়ছে, এটি সত্য। তবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানতাম না। যেসব এলাকায় হামের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৯০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
টিকাদান কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি দুর্গম পাহাড়ে বসবাসকারী বিশেষ করে ম্রো ও খুমী সম্প্রদায়ের অনেক মানুষের টিকা গ্রহণে অনীহার কারণেও এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথি বলেন, দুর্গম পাহাড়ে হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিশুদের হামের টিকাসহ সব ধরনের টিকাদান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন