
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশইনের ঘটনায় তিন দিনের অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে টানাপোড়েনের পর অবশেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের শনাক্ত করে বিজিবি। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা চালানো হয়।
ঘটনার দিন পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরদিন বিলগাতুয়া সীমান্তে অনুষ্ঠিত আরেক দফা বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এ সময় বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে।
ফলে নারী ও শিশুসহ ১২ জনকে কয়েকদিন শূন্যরেখা এলাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, প্রচণ্ড গরম, মশার উপদ্রব এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
পরে বিজিবির আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষিতে বিএসএফ বিষয়টি পুনরায় যাচাই করে। সর্বশেষ সোমবারের পতাকা বৈঠকে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উজির আলী, তার স্ত্রী জয়নুর বেগম, ছেলে শিহাদ, ইনজামুল ও শিশু সামাদসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ জনকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সীমান্তে পুশইন ও মানবিক সংকটের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
মন্তব্য করুন