
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম (দবিরুল ইসলাম)–এর জানাজায় অংশ নিতে তার বড় ছেলে, সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন দিনাজপুর কারাগার থেকে ৭ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার সকালে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং পিতার জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
প্রয়াত দবিরুল ইসলাম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে ঢাকার থেকে তাঁর মরদেহ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঠাকুরগাঁওয়ের সমির উদ্দিন কলেজ মাঠে আনা হবে। এরপর নিজ বাসভবনে নেওয়া হবে। বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)–এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
তিনি বিভিন্ন সময়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পর পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং একই বছরের ৩ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ কারাভোগের পর তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়, সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন