
নামে কাউন্টার সার্ভিস হলেও বাস্তবে লোকাল বাসের মতো পরিচালিত হচ্ছে ঢাকা-মনোহরদী রুটের ‘মনোহরদী পরিবহন’— এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ যাত্রীরা। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে দ্রুত ও আরামদায়ক যাত্রার প্রত্যাশায় টিকিট কাটলেও দীর্ঘ সময়ের বিলম্ব, অতিরিক্ত যাত্রী তোলা, বাসের ভেতরের অব্যবস্থাপনা এবং স্টাফদের দুর্ব্যবহারের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা থেকে মনোহরদী রুটে চলাচলকারী এই পরিবহনটি প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। কাউন্টার সার্ভিসের নিয়ম উপেক্ষা করে পথে পথে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়, যা যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
যাত্রী মোঃ ফারুক হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার পর কাঁচপুর এলাকায় প্রায় ১০ মিনিট, তারাব বিশ্বরোডে ৫ মিনিট, মাধবদীতে প্রায় ১০ মিনিট এবং ভেলানগরে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত বাস দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া ইটাখোলা মোড়ে এসে কাউন্টার সার্ভিসের নিয়ম ভেঙে টিকিটবিহীন স্থানীয় যাত্রীদের ডেকে ডেকে বাসে তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু বড় স্টেশনই নয়, পথের বিভিন্ন ছোট ছোট স্টপেজেও ৫ থেকে ১০ মিনিট করে সময় নষ্ট করা হয়। ফলে যেখানে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা, সেখানে যাত্রীদের ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় তুলনামূলক বেশি ভাড়া আদায় করা হলেও সেবার মান সেই অনুপাতে নেই। যাত্রীরা বলছেন, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এদিকে গ্রীষ্ম মৌসুমে বাসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। যাত্রী মাসুদুর রহমান আলমগীর , অধিকাংশ ফ্যান ঠিকমতো কাজ করে না। কোনো একটি ফ্যান চললেও অন্যগুলো বন্ধ থাকে। ফলে ভ্যাপসা গরমে শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম অস্বস্তির মধ্যে পড়েন।
এছাড়া বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারদের আচরণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা জানান, দীর্ঘ সময় গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে কিংবা ফ্যান চালুর অনুরোধ করলে অনেক সময় স্টাফরা অশোভন আচরণ করেন। গাড়ী গাউছিয়া অতিক্রম করার পর কাচপুর থেকে ১০/২০ টাকার লোকার যাত্রী হিড়িক ওঠা নামায় মাঝে মোবাইল মানি ব্যাগ চুড়ির ঘটনা চেকিং নামে ভাগবাটোয়া আর হয়রানী।
এক ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, “বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কাটি দ্রুত ও আরামদায়ক যাত্রার আশায়। কিন্তু মনোহরদী পরিবহনে উঠলে মনে হয় লোকাল বাসে যাচ্ছি। ইটাখোলায় এসে অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় বাসের ভেতর দাঁড়ানোরও জায়গা থাকে না। প্রতিবাদ করলে স্টাফদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়।”
এ বিষয়ে বিভিন্ন কাউন্টারের টিকিট মাস্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
কাউন্টার সার্ভিসের নামে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে এবং যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। যাত্রীদের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কাউন্টার সার্ভিস পরিচালনা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং স্টাফদের আচরণে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে এ রুটে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
মন্তব্য করুন