
বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গিয়ে স্থানীয়দের দুই পক্ষের বিরোধের মুখে পড়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. হাসনা হেনার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া স্থানীয়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডায় পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে উঠলে তদন্ত অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ধুনট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা সুলতানা বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্তে যান। শুরুতে স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলেন, অন্য পক্ষ আপত্তি তোলে তদন্তের ধরন নিয়ে। দুই পক্ষের এই মতবিরোধ একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডায় রূপ নেয়, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মূল অভিযোগের সূত্রপাত গত ২ জুলাই। ওই দিন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একটি প্রতিনিধিদল হাসনা হেনার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রেজোয়ান হোসেন, ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়্যেদা জাহান বানুর কাছে।
অভিযোগপত্রে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, প্রধান শিক্ষিকার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়া এবং ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার অভিযোগ তোলা হয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের গাছ কেটে ব্যক্তিগত আসবাবপত্র তৈরি, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, নির্ধারিত পোশাক অন্যত্র বিক্রি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও রয়েছে অভিযোগপত্রে।
অভিযোগকারীদের একজন সোহাগ বাবুর ভাষ্য, প্রধান শিক্ষিকার অনিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, সার্টিফিকেট ও অনুষ্ঠানের নামে অর্থ আদায় এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থে অনিয়মের অভিযোগ তোলার পর তদন্তে এলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পেশিশক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করে।
তবে ভিন্নমত পোষণ করছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁদের কয়েকজনের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধ ও প্রতিহিংসা থেকেই এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই বিরোধের জেরে বিদ্যালয় ও গ্রামের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা সুলতানা বলেন, তদন্তের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাজে বাধা সৃষ্টি করেন, কর্তৃপক্ষও সহযোগিতা না করে বরং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে ঘটনাস্থলে তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। তদন্ত অসম্পূর্ণ রেখে ফেরার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাসনা হেনা। তাঁর ভাষ্য, বসতবাড়ি ও পারিবারিক পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এসব অভিযোগ সাজানো হয়েছে; কোনো অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
বিষয়টি নিয়ে ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা সুলতানাকে। ঘটনাস্থলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।
মন্তব্য করুন