
শ্রেনিকক্ষজুড়ে পিনপতন নীরবতা, অথচ খাতার পাতায় কলমের আঁচড়ে প্রস্ফুটিত হচ্ছিল এক নতুন ইতিহাস। রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার রোকনীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ এক আবেগঘন ও উদ্দীপনাময় পরিবেশে উদযাপিত হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। এই ঐতিহাসিক দিবসটির তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের মনে ছড়িয়ে দিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ রচনা প্রতিযোগিতা, যা শিক্ষক ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এক উৎসবমুখর আবহাওয়া বিরাজ করে। ছোট্ট শিশুরা অত্যন্ত উৎসুক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের টেবিলে বসে কলম হাতে তুলে নেয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, ত্যাগ এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কীভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনকে স্পর্শ করেছে, তা ফুটে ওঠে তাদের রচিত প্রতিটি বাক্যে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা ও দিকনির্দেশনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক মোছা: আখতারা বানু। আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেনঃ
“শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের আলোয় আলোকিত করলেই চলবে না, তাদের মাঝে দেশপ্রেম, সত্য ও ন্যায়ের চেতনা জাগিয়ে তোলাও আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহান ইতিহাস ও আত্মত্যাগের গল্প নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতেই আমাদের আজকের এই প্রয়াস। শিশুরা যেভাবে নিজেদের চিন্তাভাবনা খাতার পাতায় ফুটিয়ে তুলেছে, তা দেখে আমি আপ্লুত। এই শিশুরাই আগামী দিনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখবে এবং একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তুলবে।”
অনুষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকমণ্ডলীও আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেন। বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক বলেন:
“আজকের এই প্রতিযোগিতা কেবল কোনো মেধা যাচাইয়ের লড়াই ছিল না, এটি ছিল শিশুদের অনুভূতির প্রকাশ। আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছি, দেশের ইতিহাস ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এই খুদে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কতটা গভীর। এ ধরনের প্রতিযোগিতা তাদের চিন্তাশক্তি বিকাশ এবং সৃজনশীলতা বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।”
প্রতিযোগিতা চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও একাগ্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিযোগিতা শেষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সাধুবাদ জানানো হয় এবং অত্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইতিহাসকে হৃদয়ে ধারণ করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার এই অনন্য উদ্যোগটি পুরো এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন