মো: মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট (সদর) প্রতিনিধি
১৯ মে ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কৃষিখাতে ধারাবাহিক লোকসানের মুখে কৃষক, গ্রামীন অর্থনীতিতে ধস নামার আশংকা

Share this news with

দেশের কৃষিখাতে অব্যাহত লোকসান গুনায় গ্রামীন অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। উৎপাদিত ধান, আলু, পেঁয়াজ ও তামাকে ন্যায্যমুল্য না পাওয়ায় দিশেহারা কৃষক। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। গ্রামীন অর্থনীতির মেরুদন্ড হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য। কৃষি উৎপাদনে কৃষক সিরিজ লোকসান গুনায় গ্রামীন অর্থনিতীতে ধস নেমেছে, যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর।

কৃষকদের অভিযোগ— সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু ফসল বিক্রির সময় তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ফলে ঋণ করে চাষাবাদ করা অনেক কৃষক এখন দিশেহারা।

বাজার অব্যবস্থাপনার কারনে রবি মৌসুমে সার সংকটের মধ্যে দ্বিগুন দামে সার ক্রয় করে আলু উৎপাদন করে কৃষক লোকসানের মুখে পড়ে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ১৩ থেকে ১৬ টাকা, বাজারে তা ভরা মৌসুমে বিক্রি হয়েছে ৮ টাকা দরে।প্যাকেজিং এবং সংরক্ষন খরচ মিটিয়ে প্রতিকেজি আলু ১৯ থেকে ২০টাকা দর পরে,বর্তমান বাজারে তা ১৪টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।পরিসংখান অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় দেশের উৎপাদিত আলুর ৩৪’২৭শতাংশ উৎপাদিত হয়ে থাকে। মোটাদাগে উত্তরাঞ্চলের কৃষক আলুতে লোকসান গুনে।

আলুর পাশাপাশি পেয়াঁজ চাষীরা এবার বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। আবহাওয়া এবার অনুকুলে থাকায় পেয়াঁজের বাম্পার ফলন হয়। কিন্তু মুড়িকাটা পেয়াঁজের বাজার নিম্নমুখী থাকায় কৃষক লোকসানে পড়ে। প্রতিমন পেয়াঁজ ভরা মৌসুমে ২০০/৩০০টাকা বিক্রি করতে হয়। এতে পেয়াঁজ চাষীদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়।

দেশের হাওর অঞ্চলের পাশাপাশি উত্তরের ০৮ জেলায় ধান কাটার মৌসুম চলছে। মাঠের ধান বাড়ির উঠোনে পৌছানো, ধান মাড়াই, ধান শুকানো সব কিছুই জোড়েসোরে চললেও মুখে হাসি নেই কৃষকের। ধানের মুল্য নিম্নমুখী হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকের।বৈশ্বিক অবস্থার পেক্ষাপটে এবার ডিজেল, সার প্রাপ্তিতে কৃষককে ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেই সাথে কৃষি উপকরনের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়েছে। বাজা। বাজার মনিটরিং না থাকায় কৃষক পর্যায়ে ধানের বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় কৃষক লাভবান হতে পারছেনা।

গত ৩রা মে থেকে সরকার ধান ক্রয় শুরু করলেও বাজারে তা প্রভাব পড়েনি। এবছর বোরা প্রতি কেজি ৩৬টাকা নির্ধারন করেছে সরকার। কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের সুযোগ থাকলেও নানা জটিলতায় কৃষকের উৎসাহ নেই সরকারের কাছে ধান বিক্রয়ে।

উত্তরাঞ্চলের হাট বাজার ঘুরে জানা যায় প্রতিমন ধান ৮০০থেকে ৮৫০টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে ধানের মুল্য কম থাকার পিছনে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ব এবং সরকারের বাজার ব্যাবস্থার ত্রুটি, ফলে ধান চাষীদের হতাশা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে উত্তরাঞ্চল অর্থনিতীর মেরুদন্ড হচ্ছে অর্থকারী ফসল তামাক চাষাবাদ। তামাক কে ঘিরে উত্তরাঞ্চলে ছোট বড় বিড়ি ও সিগারেট শিল্প গড়ে উঠেছে। রয়েছে শতাধিক তামাক ক্রয় কেন্দ্র। তামাক চাষে কোম্পানিগুলো কৃষকদের মাঝে প্রনোদনার সার, বীজ, ঔষধ সরবরাহের পাশাপাশি আর্থিক সুবিধা প্রদান করে থাকে। ফলে বিগত বছর গুলোয় এই অঞ্চলের কৃষক তামাক চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ায় তামাক উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্রামীন অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে।

তামাক চাষে কৃষকের সংখ্যা বাড়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। প্রতিবছর তামাক জাত পন্যের দাম দ্বিগুন হলেও কৃষকের তামাকের দর নিয়ে কোম্পানিগুলোর চলছে নানা টালবাহানা। ফলে এবছর যাদের কোম্পানির কার্ড রয়েছে কৃষক পর্যায়ে তাদের নির্ধারিত পরিমানের তামাক সংগ্রহ করছে। এতে কার্ড বিহীন তামাক চাষীরা তামাকের অর্ধেক মুল্য পাচ্ছেন না। এতে এক শ্রেনীর মধ্যস্বত্যভোগী সুযোগ নিয়ে কোম্পানি মুল্যের অর্ধেক দামে তামাক ক্রয় করছেন। এতে প্রান্তিক তামাক চাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এবছর তামাক কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে চাষীদের পকেট কাটছেন এমন অভিযোগ তামাক চাষীদের। কোম্পানিগুলো তামাক উৎপাদনে প্রলুব্ধ করে উৎপাদনের পরে অনাগ্রহ দেখিয়ে কৃষকদের সাথে প্রতারনা করছেন এমন দাবী কৃষকের।এই অব্যাবস্থাপনায় কৃষক হতাশ হয়ে উৎপাদিত তামাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানালেও উপর মহলের ভ্রুক্ষেপ আসেনি।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি বাজার তদারকি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ বাড়ানো জরুরি। না হলে কৃষকের লোকসান আরও বাড়বে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়, “সারা বছর কষ্ট করে চাষ করি, কিন্তু ফসল বিক্রি করে লাভ তো হয়ই না, উল্টো ঋণের বোঝা বাড়ছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এতে গ্রামীন অর্থনিতীতে ধস নামার আশংকা রয়েছে।

  • প্রধান কার্যালয়: ২৪১/১-বি (হক ট্রেডার্স), তেজকুনি পাড়া (বিজয় সরণি - তেজগাঁও লিঙ্ক রোড), তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫
    নিউজ রুম: ০১৭৪৬-৭৪৫১২৫
    প্রতিষ্ঠাকাল: ০২ এপ্রিল ২০২৪ ইংরেজি।
    ই-মেইল: pressdeskbd@gmail.com

    View all posts
Share this news with

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাবিতে সায়েন্স ক্লাবের ‘ফ্রেশার মাইন্ড হান্টার্স ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

জাকসুর আবাসন প্রস্তাব থেকে চাঁদা আদায়—চার ইস্যুতে তদন্ত দাবি ছাত্রশক্তির

ঠাকুরগাঁওয়ে পলিথিনবিরোধী অভিযান, তিন দোকানিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা

নোয়াখালী পৌর বণিক সমিতি নির্বাচনে আপেল-রায়হান প্যানেলের মনোনয়ন পত্র জমা

কলকাতায় হোটেলে ভয়াবহ আগুন, সপরিবারে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত

ধুনটে ১৮০ মাদক পয়েন্টে প্রকাশ্যে বেচাকেনা, ছড়িয়ে পড়ছে আন্তঃজেলা সিন্ডিকেট

‎হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ: হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী দায়িত্ব পাচ্ছেন সাচিং প্রু জেরী

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে রোয়াংছড়িতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি আলোচনা সভা

জাবিতে গাঁজাসহ বহিরাগত আটক, কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার দাবি জাকসু সদস্যের

১০

বঙ্গ সোনাহাট ফুটবল একাডেমিতে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করলেন ইউএনও

১১

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

১২

জাবি উদ্যোগ নিলে দেশের প্রথম প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা সম্ভব: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

১৩

কুবিতে প্রথমবারের মতো শিল্প একাডেমি বৈঠক অনুষ্ঠিত

১৪

নোবিপ্রবিতে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

১৫

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন গোবিপ্রবি উপাচার্য

১৬

ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজ কিশোরীকে ফিরে পেতে পরিবারের আকুতি

১৭

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ: থানায় মামলা, অভিযুক্ত পলাতক

১৮

জাবিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম

১৯

ধুনটে বিস্ফোরক মামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

২০