
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি অবৈধ ফ্রুট জেলি ও রোবো আইসক্রিম তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে লাইসেন্সবিহীন ও নোংরা পরিবেশে ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে এসব শিশুখাদ্য তৈরির অপরাধে কারখানার মালিক মোকছেদুল আলমকে (৩৫) এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।গতকাল (২৩ মে) রাত ১১টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের একটি দল পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের ওই অবৈধ কারখানায় হানা দেয়। এ সময় সেখান থেকে প্রায় ৫ হাজার পিস ভেজাল ফ্রুট জেলি, রোবো আইসক্রিম এবং এগুলো তৈরির বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর রাসায়নিক (কেমিক্যাল) জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানার মালিক মোকছেদুল আলমকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধর লোকচক্ষুর অন্তরালে এই কারখানায় অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে শিশুদের আকর্ষণীয় জেলি ও আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছিল। এসব খেয়ে এলাকার শিশুরা নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। এই অবৈধ কারখানাটি বন্ধ ও মালিককে শাস্তি দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযান পরিচালনাকারী কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক জানান, “জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এসব শিশুখাদ্য রাতের আঁধারে তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। উপজেলার প্রতিটি অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার হামিদ বলেন, “আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাই যে, কলাপাড়া পৌরসভার চিংগুড়িয়া এলাকার শেষের দিকে, মর্তুজা কালভার্ট এলাকায় অনুমতি ব্যতীত ফ্রুট পুডিং জেলি থেকে শুরু করে ৭টি খাদ্য আইটেম উৎপাদন করছেন। এই প্রতিষ্ঠানের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নাই, তাদের বিএসটিআই (BSTI) সনদ নাই, এবং কোনো ল্যাব নাই, কেমিস্ট নাই। তিনি নিজেই কোনো ব্যক্তির পরামর্শ ছাড়াই এইরকম জেলি উৎপাদন করতেছেন।
আমরা দেখেছি এর সবগুলোই অস্বাস্থ্যকর, মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিশেষত এই জেলিগুলো আমাদের বাচ্চারা খায়। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর প্রসিকিউশন দেন— এটা আমলে নিয়ে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুসারে এর মালিকের ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আমরা প্রত্যাশা করব আমাদের সম্মানিত নাগরিক যারা আছেন, তারা এই সকল খাবারের বিষয়ে সচেতন হবেন, আমাদেরকে জানাবেন। পরবর্তীতে আমাদের কলাপাড়ার যেকোনো জায়গায় এই ধরণের বিষয় পাবো, আমাদের শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করব।”
মন্তব্য করুন