সর্বশেষ
||মধুর ক্যান্টিনে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সংবাদ সম্মেলন||বেনাপোলে ওজন জালিয়াতির ফাঁদ: এক ট্রাকেই লাখ টাকার শুল্ক গায়েব!||চকরিয়ায় সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা, উচ্ছেদের নির্দেশ||চারদিন বিদ্যুৎ বিহীন;পরিক্ষা দিচ্ছে অন্ধকারে||গ্রাম পুলিশদের জাতীয়করণ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন||“উপকূল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত||রামপুরা হত্যাকাণ্ডে ২ বিজিবি কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির||মোমবাতি-চার্জার লাইটের আলোয় এসএসসি পরীক্ষা||টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে গ্ৰামের পর গ্ৰাম প্লাবিত : কৃষকের কপালে ভাঁজ||পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় প্রবেশ করলো বাংলাদেশ

এক ফসলা বৃষ্টিতে প্রান ফিরেছে চা বাগানে

ছবি—স্বস্তি নিয়ে কাজ করছেন চা বাগানের শ্রমিকরা।

সূর্যের আলো তখন পুরোপুরি ঝলকানি নেই। কুয়াশা ভেজা সবুজ গালিচার মতো ছড়িয়ে থাকা চা বাগানের পাতাগুলো যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করছিল। অনেক দিন ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই অপেক্ষার শেষ হলো এক ফসলা বৃষ্টিভেজা সকাল।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলোতে শুক্রবার নেমে এলো কাঙ্খিত বৃষ্টি। দীর্ঘ খরার পর সেই বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেল ক্লান্ত গাছগুলোর শরীরে। ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে পড়ল ৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। তারপর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা—আরও জোরে নামল বৃষ্টি, ৩২.৫ মিলিমিটার। সব মিলিয়ে দিনের শেষে রেকর্ড হলো ৩৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।

বাগানের শ্রমিকেরা যখন ভেজা মাটিতে পা রাখলেন, তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠল স্বস্তির হাসি। এতদিন ধরে শুষ্ক হয়ে থাকা মাটিতে আবার ফিরে এসেছে আর্দ্রতা। ছাঁটাই করা গাছগুলো যেন নতুন করে নিশ্বাস নিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল-মামুন বলেন, চা গাছের বেড়ে ওঠা আর পাতা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টি অত্যান্ত জরুরি। বছরে দুই হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত চা শিল্পের জন্য আদর্শ। আর একটি পরিণত চা গাছ শীতকালে গড়ে ১.৩ মিলিমিটার এবং গ্রীষ্মকালে প্রায় ৬ মিলিমিটার পানি প্রয়োজন হয়।

গত জানুয়ারি থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বাগানেই সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কোথাও পানির উৎস নেই, কোথাও জলাধার শুকিয়ে গেছে। ফলে স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় অচল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রকৃতির এই হঠাৎ দান যেন সব চিন্তা দূর করে দিল। এখন বাগানের ডালপালায় ধীরে ধীরে উঁকি দেবে সেই কাঙ্খিত দৃশ্য—‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’।

দীর্ঘ খরার পর শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো আবারূ সবুজে ভরে ওঠার অপেক্ষায়। আর বাগানজুড়ে শ্রমিকদের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—নতুন মৌসুমে কুঁড়ি ভরা ঝুড়ী নিয়ে ফিরবে প্রাণবন্ত দিনগুলো। ফলনে যেমন মালিকরা উপকৃত হবে তেমনি আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মধুর ক্যান্টিনে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সংবাদ সম্মেলন

বেনাপোলে ওজন জালিয়াতির ফাঁদ: এক ট্রাকেই লাখ টাকার শুল্ক গায়েব!

চকরিয়ায় সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা, উচ্ছেদের নির্দেশ

চারদিন বিদ্যুৎ বিহীন;পরিক্ষা দিচ্ছে অন্ধকারে

গ্রাম পুলিশদের জাতীয়করণ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

“উপকূল বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রামপুরা হত্যাকাণ্ডে ২ বিজিবি কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির

মোমবাতি-চার্জার লাইটের আলোয় এসএসসি পরীক্ষা

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে গ্ৰামের পর গ্ৰাম প্লাবিত : কৃষকের কপালে ভাঁজ

পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় প্রবেশ করলো বাংলাদেশ

১০

লালমনিরহাটে র‍্যাবের অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

১১

শ্রীমঙ্গলে দা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই

১২

মৌলভীবাজারে ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৩

শাহবাগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার

১৪

গুম মামলায় ৩ সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির

১৫

বায়তুল মোকাররমে স্বর্ণগলি এলাকায় উত্তেজনা, ব্যারিকেডের কাজ স্থগিত

১৬

এনসিপির ঢাকা দক্ষিণ কমিটিকে সংবর্ধনা

১৭

চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে ঢাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

১৮

মধ্যরাতে ধুনটে পুলিশের বিশেষ অভিযান — মাদক কারবারিসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

১৯

নোয়াখালীতে মাটি খননের সময় মর্টার শেল উদ্ধার, আতঙ্ক স্থানীয়দের মাঝে

২০