
দীর্ঘ দুই যুগের অবহেলা ও বঞ্চনা পেরিয়ে অবশেষে বগুড়াবাসী পেয়েছে তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নের সিটি কর্পোরেশন। পৌরসভা থেকে মহানগরে রূপান্তরিত বগুড়া এখন এক নতুন পরিচয়ে উদ্ভাসিত। সম্প্রতি নতুন প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি অলিগলিতে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। পরিবর্তনের এই হাওয়ায় এখন দুলছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। যার ধারাবাহিকতায়, আসন্ন নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ওয়ার্ডবাসীর সেবায় নিজেদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরছেন তারা।
বগুড়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ ২নং ওয়ার্ড, যা সম্পূর্ণ বৃন্দাবনপাড়া এবং ফুলবাড়ি এলাকার আংশিক অংশ নিয়ে গঠিত। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গড়ে ওঠা এই জনপদ মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ এবং দেশখ্যাত সরকারি আজিজুল হক কলেজের কল্যাণে ‘শিক্ষার শহর’ হিসেবে পরিচিত। ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে ঘেরা এই এলাকা হাজারো শিক্ষার্থীর মূল ঠিকানা। একদিকে বিসিক শিল্পনগরীর শ্রমিকদের বসবাস, অন্যদিকে ঘনবসতি ও অব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট নাগরিক সমস্যার কারণে বাসযোগ্যতা ক্রমেই যেন হুমকির মুখে পড়ছে। আর এই সংকটময় মুহূর্তে আসন্ন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ২ নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আবারও আলোচনায় এসেছেন ওয়ার্ডবাসীর চিরচেনা একজন লড়াকু ও মানবিক ব্যক্তিত্ব এসএম মানিক সরকার। এলাকার প্রতিটি সমস্যা সমাধানে তিনি ব্যক্ত করেছেন তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।
সমস্যার বেড়াজালে বন্দী ওয়ার্ডবাসীর ভোগান্তির চিত্র:
সময়ের চাকা ঘুরলেও ২নং ওয়ার্ডের চিত্র যেন এখনো সেই বহু বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাস্তবতায় থমকে দাঁড়িয়ে আছে। ফুলবাড়ী প্রধান সড়কের পাশে সদ্য বিলুপ্ত বগুড়া পৌরসভার উন্মুক্ত ডাস্টবিনটি এখন এলাকার জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। বিশেষ করে ভান্ডারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সুবীল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের যাতায়াত করতে হচ্ছে এই উৎকট গন্ধ ও জীবাণু মাড়িয়ে।
এলাকার বুক চিরে বয়ে গেছে ওয়ার্ডবাসীর প্রাণপ্রিয় ‘সুবিল খাল’। বিগত দুই যুগের রাজনৈতিক অবহেলা এই খালের নাব্যতা কেড়ে নিয়েছে। যদিও বর্তমানে এই খাল রক্ষায় সরকারের ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ও নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদস্পন্দন ‘রাইজিং ক্লাব’ মাঠটি বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের অভাবে মশার লার্ভা উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মাঠের আয়তন সংকুচিত করে এক কোণায় শহীদ মিনার নির্মাণ করায় এটি এখন খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এছাড়া আবাসিক এলাকার সরু রাস্তা এবং ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত দোকানপাট ওয়ার্ডবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে বলেও জানান তারা। মাদকের বিষাক্ত ছোবল এখন গলির মোড়ে মোড়ে; সিগারেটের ধোঁয়া থেকে শুরু করে ইয়াবার মরণনেশা গ্রাস করছে যুবসমাজকে। পাশাপাশি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিক্য থাকায় নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
সমাধানের প্রতিশ্রুতি ও মানিকের উন্নয়ন পরিকল্পনা:
এলাকার এই পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে নিজের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী এসএম মানিক সরকার। তিনি বলেন, “২নং ওয়ার্ড শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী, তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে কিছু সমস্যা এখন প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিয় ওয়ার্ডবাসীর সমর্থনে আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই উন্মুক্ত ডাস্টবিন সরিয়ে সেখানে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করব। শিক্ষার্থী ও পথচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
সুবিল খাল ও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে মানিক সরকার জানান, “খালের নাব্যতা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি প্রকল্পের সাথে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সংরক্ষণ কমিটি গঠন করা হবে। রাইজিং ক্লাব মাঠসহ এলাকার ক্রীড়া প্রাঙ্গণগুলোকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করার জন্য দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও মাঠের সীমানা নির্ধারণ করা হবে।” সরু রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “সরু রাস্তাগুলোর জন্য প্রকল্প হাতে নিয়ে রাস্তার দুপাশে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ বা ভর্তুকির মাধ্যমে সম্প্রসারণ ও সংস্কার করা হবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।”
মাদক ও নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার জানিয়ে তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে প্রতিটি পাড়ায় ‘অ্যান্টি-ড্রাগ স্কোয়াড’ গঠন করা হবে। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় পুরো ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা প্রহরী ব্যবস্থা চালু করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ক্রীড়া – এই চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে একটি আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলা। আমি বিশ্বাস করি, ২নং ওয়ার্ডবাসী এবার এমন একজন প্রতিনিধিকে বেছে নেবেন, যিনি জনমুখী ও মানবিক চিন্তা-ভাবনা নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সাহসী ভূমিকা রাখতে পারবেন। আমি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শুধু রাজনীতি নয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে মানিক সরকারের সরব উপস্থিতি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের মাঝেও রয়েছে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও নেতাকর্মীদের প্রচার-প্রচারণা মুগ্ধভাবে গ্রহণ করছেন সাধারণ ভোটাররা।
২ নং ওয়ার্ডবাসীর অনেকেই জানান, রাজনীতির ময়দান ও জনগণের সেবায় এসএম মানিক সরকার একজন সৎ, লড়াকু, মানবিক এবং জননন্দিত ব্যক্তিত্ব। বিগত দিনগুলোতে তিনি নিরলস শ্রমে বিপন্ন মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। রাজপথ থেকে পাড়া-মহল্লা সবখানেই তিনি দুই হাতে বিলিয়েছেন ভালোবাসার অবারিত ধারা। আর্তমানবতার সেবায় তার এই নিঃস্বার্থ উপস্থিতি তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় পৌঁছে দিয়েছে। ভোটারদের প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে সেই ভালোবাসা বহিঃপ্রকাশ করবেন তারা। এখন দেখার বিষয়, আগামী নির্বাচনে ভোটাররা তাদের এই প্রিয় ‘মানিক ভাই’কে জয়ী করে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু করেন কি না।
মন্তব্য করুন