
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় বাগদা চিংড়ির ফুটানো ডিম (যা স্থানীয়ভাবে ‘নকলি ডিম’ নামে পরিচিত) জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতে চিংড়ি ডিমের মূল মালিকপক্ষকে না পাওয়ায় বহনকারী গাড়িচালককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ ডিম স্থানীয় নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে উপজেলার মানিকখালী এলাকায় স্থানীয় জনতার সহায়তায় এ ডিম জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে রোববার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জেলার দেবহাটা উপজেলার বালিয়াঘাটা গ্রামের আলম বারীর ছেলে ও প্রাইভেটকার চালক সাইদুল ইসলাম একটি গাড়িতে করে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে ৮ পলি অবৈধ ভারতীয় বাগদা চিংড়ির ডিম নিয়ে আশাশুনির মানিকখালীর একটি হ্যাচারির উদ্দেশ্যে রওনা হন। গভীর রাতে গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে মানিকখালী এলাকার ওই হ্যাচারির গেটে প্রবেশের সময় স্থানীয় লোকজন সেটি আটকে দেয় এবং থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে আশাশুনি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিম ভর্তি পলি, ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে রোববার সকালে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামানন্দ কুন্ডুর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। আদালত জব্দকৃত ৮ পলি বাগদা চিংড়ির ডিম মৎস্য সম্পদ রক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে মরিচ্চাপ নদীতে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। একই সাথে মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার দায়ে গাড়িচালক সাইদুল ইসলামকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
আটক চালক সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি কেবল ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে এই ডিমগুলো নির্দিষ্ট হ্যাচারিতে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, চালকের দেওয়া বক্তব্য এবং প্রাথমিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে ডিমগুলো অবৈধ উপায়ে ভারত থেকে সীমান্ত পার করে আনা হয়েছে। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট হ্যাচারির মালিক বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্তৃপক্ষকে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় আপতত বহনকারী চালককে জরিমানা করা হয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় মৎস্যসংশ্লিষ্ট চাষি ও ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, প্রতিবছর সরকারি নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র সীমান্ত গলিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি উৎস থেকে মানহীন বাগদা চিংড়ির ডিম এনে স্থানীয় হ্যাচারিগুলোতে ব্যবহার করে। এই ‘নকলি ডিম’ দিয়ে উৎপাদিত পোনা চাষ করে পরবর্তীতে চাষিরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। দেশের মৎস্য শিল্প রক্ষা এবং চাষিদের লোকসান থেকে বাঁচাতে সীমান্ত এলাকাসহ স্থানীয় হ্যাচারিগুলোতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন