
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া জোড়া লাগানো যমজ কন্যাশিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চিকিৎসা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করে সুস্থ জীবনে ফেরানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দরিদ্র পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের।
দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসান ও তাঁর স্ত্রী। গত মে মাসের শুরুতে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় শিশু দুটি। জন্মের পর চিকিৎসকরা দেখতে পান, তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত শরীরের একটি অংশ পরস্পরের সঙ্গে জোড়া লাগানো।
জন্মের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় চিকিৎসকরা তিন মাস পর ঢাকায় নিয়ে ফলোআপ করার পরামর্শ দেন। সেই সময় পার হলেও অর্থাভাবে এখনো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে পারেনি পরিবারটি।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশু দুটিকে আলাদা করার আগে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে একাধিক জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে হবে। এরপরই অস্ত্রোপচারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান স্থানীয় একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মাসে তাঁর আয় প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই শিশুর দুধ, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।
অসহায় বাবা নাহিদ হাসান বলেন, “বাচ্চা দুটোর চিকিৎসার কথা ভাবলে রাতে বুক ফেটে কান্না আসে। রাতে চোখে ঘুম আসে না। চিকিৎসকরা বলেছেন, চিকিৎসা করালে ওদের আলাদা করে সুস্থ জীবনে ফেরানোর সুযোগ আছে। কিন্তু সেই চিকিৎসার টাকা জোগাড় করব কীভাবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
এদিকে শিশু দুটির চিকিৎসা সংকটের খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ গত বুধবার বিকেলে বিলগাথুয়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শিশু দুটিকে দেখেন। এ সময় তিনি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী, গুঁড়া দুধ এবং নগদ ৫ হাজার টাকা সহায়তা তুলে দেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান বলেন, শিশু দুটিকে সুস্থ রাখতে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশু দুটির চিকিৎসায় আরও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু সরকারি সহায়তা নয়, শিশু দুটির জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা, মানবিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হতে পারে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের।
অর্থের অভাবে যেন চিকিৎসার সম্ভাবনা হারিয়ে না যায়, সেটিই এখন পরিবারটির প্রধান আকুতি। নিষ্পাপ দুই শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন পূরণে মানবিক সহযোগিতার প্রত্যাশায় দিন গুনছে অসহায় পরিবারটি।
মন্তব্য করুন