
কুষ্টিয়া শহরের একটি ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে কয়েক দিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। একই দিনে মামলার প্রধান আসামি রাফিউজ্জামান রবিনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্ত রাফিউজ্জামান রবিনকে আটক করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার মামলা রেকর্ডের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দৌলতপুর উপজেলার লক্ষীখোলা গ্রামের বাসিন্দা রাফিউজ্জামান রবিন প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা ও এক সন্তানের জননী ওই তরুণীকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলার ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক দিন ধরে তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের পাশাপাশি তার পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়। পরে সোমবার সকালে সুযোগ বুঝে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে রাস্তায় স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চাইলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর যৌন নির্যাতনের ইতিহাস থাকায় তাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রঞ্জিত কুমার বলেন, প্রধান আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতব্বর বলেন, মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
মন্তব্য করুন