
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাঞ্চল্যকর রতন মিয়া (২৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে (৬০) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) রাতে র্যাব-৯ ও র্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম দিরাই থানার আলীনগর গ্রামের মৃত রেয়াজ উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার (১২ জুলাই) র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ স্পেশালিস্ট (মিডিয়া) কে. এম. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, দিরাইয়ের আলীনগর এলাকার বাসিন্দা রতন মিয়ার পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে রফিকুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জেরে গত ৫ মে আসামিরা পূর্ব শত্রুতার বশত রতন মিয়ার চাচাতো ভাই শামীম আহমেদের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের বাগানের প্রায় ২০০টি আনারস গাছ কেটে ফেলে। এ ঘটনায় দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে বিকেলে শামীম আহমেদ স্থানীয় গুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে আলীনগর এলাকায় ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর পুনরায় হামলা চালায়। শামীমকে বাঁচাতে রতন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রতন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পিতা বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। র্যাব-৯ এই হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১১ জুলাই রাত ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরা জসিমউদ্দিন এভিনিউ এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় পলাতক আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন