
নওগাঁ সদর উপজেলায় পিতাকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত ছেলে সুমন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত মাহতাব আলী একজন রিকশাচালক ছিলেন। তার ছেলে সুমন দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রায়ই বাবা মাহতাব আলী ও স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে সুমনের নির্যাতনের কারণে তার স্ত্রী ঢাকায় চলে যান। পরে গত ৩ জুলাই তিনি বাড়িতে ফিরে এলে আবারও পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই রাতে মাহতাব আলী ও তার ছেলে সুমন একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। বাবা ছেলেকে বিভিন্ন বিষয় বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেন। তবে সুমন তা মেনে নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ রয়েছে, ৬ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সুমন তার বাবাকে ঘর থেকে টেনে উঠানে নিয়ে যান এবং কাঠের বাটাম ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে মাহতাব আলী গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত সুমন পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাকেও বিশেষভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নওগাঁ ও বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় ডিবির একটি বিশেষ দল। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত কখনও ঢাকায়, আবার কখনও নওগাঁয় অবস্থান করছিলেন।
অবশেষে গত ৮ জুলাই বিকেলে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত সুমন (২৫), পিতা—মাহতাব আলী, সাং: বনানীপাড়া, থানা ও জেলা নওগাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বদা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।”
মন্তব্য করুন