
জীবনের কঠিন বাস্তবতা আর মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে রাজধানীর রমনায়।
প্রতিদিন সকাল ৯টা ১৩ মিনিট থেকে ৯টা ১৫ মিনিটের মধ্যে এই সড়ক দিয়েই সচিবালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর ঠিক সেই সময়ই ধানের শীষ হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীকে দেখেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
দিনের পর দিন একই দৃশ্য। বিষয়টি নজর এড়ায়নি প্রধানমন্ত্রীরও। এরপর থেকে তিনিও প্রতিদিন গাড়ি থেকে হাত নেড়ে নীরবে সেই শুভেচ্ছার জবাব দিতে থাকেন।
তার নাম আবদুস সালাম। বাড়ি পাবনায়। বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একসময় তিনি পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। কিন্তু স্ট্রোক করার পর আগের মতো কঠোর পরিশ্রম করতে না পারায় প্রায় আট মাস আগে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নেন।
তার এক ছেলে পেশায় গাড়িচালক। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। জীবনের নানা সংকট আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই চলছে তার সংসার।
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আর দায়িত্ব পালনের ফাঁকেই প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখে শুভেচ্ছা জানানোর এই অভ্যাস গড়ে ওঠে তার।
আবদুস সালামের এই গল্প জানার পর তার খোঁজ নিতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন কে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার কাছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এই ভালোবাসা ও সম্মান আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এখন আর আমার জীবনে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি তাঁর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
জীবনের প্রতিকূলতার মধ্যেও কর্তব্য পালন করে যাওয়া এক সাধারণ নিরাপত্তাকর্মীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগকে অনেকেই রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
মন্তব্য করুন