
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং সরকার ঘোষিত নজরুল বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে বরগুনায় তিন দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২রা জুলাই বিকেল ৪:৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, কবিতা নাট্য, নজরুলসংগীত, নৃত্য এবং পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শনিবার ৪ঠা জুলাই রাতে এ উৎসবের সমাপ্তি হয়।
তারিক বিন আনসারি সুমন ও ইফরাত ইমার সঞ্চালনায়
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বরগুনার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ তাছলিমা আক্তার।প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা এবং সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, পাবলিক প্রসিকিউটর নূরুল আমিন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল, বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন অর রশিদ রিংকুসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নজরুলের জন্মবার্ষিকীতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি, কবিতা, নাট্য, বিতর্ক, নজরুলসংগীত ও নৃত্যসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা জাতীয় কবির সাহিত্য, দর্শন ও জীবনবোধ সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার ও জেলা পরিষদের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লা সহ বক্তারা বলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল সাম্য, ন্যায়, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতা তাঁর সাহিত্য ও জীবনদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
উৎসবের প্রথম দিনে জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস। স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
মন্তব্য করুন