
ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নন্দীরচর গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ। মজিদপুর ইউনিয়নের এই গ্রামের একটি সেতুকে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার আদলে নীল-সাদা রঙে সাজিয়েছেন স্থানীয় সমর্থকেরা। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশ নীল-সাদা রঙে রাঙানো হয়েছে। দুই পাশে শোভা পাচ্ছে অসংখ্য আর্জেন্টিনার পতাকা। মাঝখানে উড়ছে বাংলাদেশের দুটি জাতীয় পতাকা। সব মিলিয়ে সেতুটি এখন এলাকাজুড়ে বিশ্বকাপ উন্মাদনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সেতুটি দেখতে আসছেন। অনেকে স্মৃতিচারণমূলক ছবি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে উপভোগ করছেন ব্যতিক্রমী এই আয়োজন।
উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ঢাকা জজ কোর্টের কর্মজীবী দীন মোহাম্মদ বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই আমরা আনন্দে মেতে উঠি। এলাকার যুবসমাজ ও প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় প্রতি আসরেই এমন আয়োজন করি। আমাদের এলাকায় আর্জেন্টিনার পাশাপাশি অন্য দলের সমর্থকও আছে। তবে খেলা নিয়ে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সবাই মিলেমিশে খেলা উপভোগ করি।”
তিনি আরও জানান, “এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু খেলার মাঠ না থাকায় তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া কাছে আমাদের আকুল আবেদন, যেন এলাকার দিকে দৃষ্টি দেন এবং একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করেন। এতে তরুণরা বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করতে পারবে।”
৯৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া বলেন, “বিশ্বকাপকে ঘিরে আমাদের এলাকায় সব সময় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি থাকলেও অন্যান্য দলের সমর্থকরাও রয়েছেন। আমরা সবাই বড় প্রজেক্টরের মাধ্যমে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করি। সেতুটি আর্জেন্টিনার রঙে সাজানোর পর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন, যা আমাদের আনন্দ দেয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক, হাসান ও সানি আহমেদসহ আরও অনেকে বলেন, “আমরা আর্জেন্টিনার সমর্থক। এ বছরও দলটির ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছি। তবে দলীয় সমর্থন নিয়ে আমাদের এলাকায় কখনো কোনো বিরোধ বা হানাহানি হয় না। সবাই যার যার পছন্দের দলকে সমর্থন করলেও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আমাদের এই সেতু দেখতে আসেন, যা আমাদের খুব ভালো লাগে। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, ফুটবলকে ঘিরে এমন আয়োজন শুধু খেলার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যেরও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
মন্তব্য করুন