
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সামাজিক উদ্যোগে হাজারো মানুষ গাছ লাগানোর কার্যক্রমে অংশ নেন। তবে পরিবেশ সচেতন মহলের প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে নির্বিচারে গাছ কাটা ও বনভূমি ধ্বংসের ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে এক দিনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কতটা কার্যকর হবে?
সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে উন্নয়নের নামে বন উজাড়, পাহাড় কাটা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ দিবসে প্রতীকীভাবে গাছ রোপণ করে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবেশ রক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের ভাষ্য, একটি পরিণত গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মাটি সংরক্ষণ এবং জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নতুন গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ ও বনভূমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বৃক্ষরোপণের ছবি ও প্রচারণার আড়ালে প্রকৃতির ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, “হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলার পর পরিবেশ দিবসে কয়েকটি চারা রোপণ করলেই প্রকৃতির ক্ষতি পূরণ হয় না। পরিবেশ রক্ষার প্রথম শর্ত হলো বিদ্যমান গাছ ও বনভূমি সংরক্ষণ করা।”
মন্তব্য করুন