
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে সীমান্তসংলগ্ন কালিন্দী নদী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামের মো. গোলাম রাব্বানীর ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৪২) এবং একই গ্রামের মৃত খাজের আলী সরদারের ছেলে মো. শাহীন (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, আহত ওই দুই ব্যক্তি প্রায় এক বছর আগে অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমন করেন। এরপর তারা কলকাতার হাওড়া হয়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে রাজমিস্ত্রি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। বুধবার রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তারা একই পথ ধরে অবৈধভাবে দেশে ফেরার চেষ্টা চালান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বসন্তপুর সীমান্তসংলগ্ন বাঁশঝাড়িয়া এলাকা দিয়ে কালিন্দী নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন তারা। এ সময় ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি ছোড়ে। এতে দুজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রাত সোয়া তিনটার দিকে দ্রুত কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন এবং একইভাবে বাংলাদেশে ফেরার পথে বিএসএফের গুলির শিকার হন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত দুই বাংলাদেশির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এদিকে এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই এমন বাংলাদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিএসএফের গুলির ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে এই ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়ে আসলেও বিএসএফের এই সহিংস আচরণ থামছে না।
মন্তব্য করুন