
বর্তমান সময়ে সড়কের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের সংস্কৃতি। তীব্র যানজট আর অসচেতনতার কারণে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পূর্ব চৌরাস্তা দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন। ট্রাফিক আইন প্রতিপালন ও সড়ক নিরাপদ রাখতে তিনি নিজেই নেমে পড়েছেন রাজপথে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌরাস্তা এলাকার যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশের মতো স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততাকে একপাশে সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ জনস্বার্থে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি শুধু গাড়ি চলাচলের দিকনির্দেশনাই দিচ্ছেন না, বরং অসচেতন পথচারী, চালক ও সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ইতিমধ্যেই চৌরাস্তা এলাকায় যানজট অনেকাংশে কমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক স্থানীয় পথচারী জানান, “ব্যস্ত এই চৌরাস্তায় আগে পারাপার হওয়াই কঠিন ছিল। ফারুক ভাইয়ের এই উদ্যোগের পর থেকে চালকদের মধ্যে এক ধরনের শৃঙ্খলা এসেছে। একজন ব্যবসায়ী নেতা হয়েও তিনি যেভাবে রোদে পুড়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
মোহাম্মদ ফারুক হোসাইনের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সমাজের প্রতিটি সংকটে শুধু সরকারি বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করে বসে না থেকে, সচেতন নাগরিক হিসেবে সবারই এগিয়ে আসা উচিত।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, সমাজের অন্যান্য ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য ফারুক হোসাইনের এই উদ্যোগ একটি উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় উদাহরণ। প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নেয়, তবে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
পূর্ব চৌরাস্তা দোকান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইনের এই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলোতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সবার।
মন্তব্য করুন