
আজ ১ জুন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শহীদ বুদ্ধিজীবী খাদেম মতিয়র রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী।
১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পীরগঞ্জ শহর থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। পরে পার্শ্ববর্তী রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহাসিক খুনিয়াদিঘি বধ্যভূমিতে নিয়ে তাঁর ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। ঘাতকরা তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং পরে ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
শহীদ খাদেম মতিয়র রহমান তৎকালীন দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমার রাণীশংকৈল রামগঞ্জ হাই স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (প্রবেশিকা) পাস করেন। পেশায় একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হলেও তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি পীরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, পঞ্চায়েত প্রধান ও চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতৈড় (ভদ্রপাড়া) গ্রামের মৃত মসলেউদ্দিনের পুত্র। এছাড়া তিনি পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাক সংবাদদাতা মেহের এলাহীর পিতা এবং পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান সহ-সভাপতি মোকাদ্দেস হায়াত মিলনের দাদা।
এদিকে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পার হলেও এই বীর সন্তানের নাম এখনও শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় গেজেটভুক্ত হয়নি। তাঁর ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তাঁর নাম শহীদ বুদ্ধিজীবীর সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
আজ তাঁর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআনখানি ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন