
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পৌর শহর ও বিভিন্ন ইউনিয়নের এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ঈদের দিন সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেও চামড়া নিতে তেমন কোন ক্রেতা না আসায় অনেকে বস্তা বন্দী আবার কেউ মাদ্রাসায় দান করেছেন।
আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের কামরুল হাসান বলেন, ‘সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো, কোরবানির পশুর চামড়া নিতে একজন ক্রেতা আসে ১লাখ ৮০ হাজার টাকা গরুর চামড়ার দাম বলে ৪৫০ টাকা। তাই বাধ্য হয়ে মাদ্রাসায় দিয়ে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, এক সময় কোরবানির পর চামড়া কেনার জন্য মৌসুমি ক্রেতারা ভিড় করতেন। অনেকে আগেই দাম ঠিক করে রাখতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কম দামে বিক্রি হলেও এবার একটু বিভিন্ন হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পশুর চামড়া এত মূল্যহীন হয়ে গেল! অথচ চামড়াজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী।’
আরেক ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল আলম বলেন, গত বছর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় গরু কেনা হয়েছিল। স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রথমে ২৯০ টাকা দাম বলে চলে যান। পরে অনেক কষ্টে ২৮০ টাকায় চামড়া বিক্রি করা হয়।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কোন ক্রেতা না আসায় সিদলার জালাল মিয়া শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসায় চামড়া দিয়ে দিতে হয়। তিনি বলেন, ‘এবার ভেবেছিলাম সরকার পরিবর্তনের পর চামড়ার চাহিদা বাড়বে এবং ভালো দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। অন্যান্য বছরের তুলনায় অবস্থা আগের মত খারাপ।’
জানা যায়, প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের অসহায় ও দুস্থ মানুষ চামড়া বিক্রির আয়ের ওপর নির্ভর করেন। অনেক গরিব আত্মীয়স্বজনও আগেভাগে যোগাযোগ করে থাকেন। পাশাপাশি মাদ্রাসার লোকজনও ঈদের পরদিন থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। ফলে অনেকে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে মাদ্রাসায় চামড়া দান করছেন।
জিনারীর মন্জুরুল হক বলেন, ‘এবার ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় গরু কেনা হয়েছিল। জবাইয়ের পর এক ব্যক্তি ৩৫০ টাকা দাম বলায় বিক্রি করিনি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও দাম না বাড়ায় শেষ জোর করে এক ক্রেতা কে ধরি দেই।
তিনি আরও বলেন, ১৫/১৬ বছর আগে ৪০ হাজার টাকার গরুর চামড়া ১৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন, কিন্তু এখন চামড়ার দাম দিন দিন কমছে।
চামড়া ব্যবসায়ী মো. হিরন মিয়া বলেন, ‘ওপর থেকে যে দর নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী চামড়া কেনা হয় না। সিন্ডিকেট সিস্টেম করা। এর বাইরে গিয়ে চামড়া কেনার সুযোগ নেই। বিকেল পর্যন্ত ৮০টি চামড়া কেনা হয়েছে তার। গত বছর লোকসান হওয়ায় এবার খুব সতর্কভাবে চামড়া কেনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন