আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যাল (ববি) প্রতিনিধি 
২৬ মে ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

প্রথমবারের মতো ‘নেচার ইনডেক্সে’ স্থান পেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

Share this news with

প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত ‘নেচার ইনডেক্সে’ স্থান পেয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সরকারি ও বেসরকারি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২০তম অবস্থান অর্জন করেছে। দুইটি গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে ০.১৫ শেয়ার স্কোর নিয়ে এই অবস্থানে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামিম বলেন, ‘এটা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা স্বস্তির খবর। আন্দোলনে জর্জরিত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা ভাল খবর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণা খাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আগ্রহের শেষ নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ সুযোগ সুবিধা ও গবেষণাগার নিশ্চিত করা হলে অচিরের বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ভালো র‍্যাংকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

গত ১৪ মে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশি-বিদেশি র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে নিতে বিশেষ কমিটি গঠন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মামুন অর রশিদ।

নেচার ইনডেক্সে স্থান পাওয়ার বিষয়ে “প্রেস ডেস্ক বিডি”-কে উপাচার্য প্রফেসর ড. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি এখানে এসেই দেশে-বিদেশি র‍্যাংকিংয়ে স্থান পাওয়ার জন্য একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। প্রাথমিক হালনাগাত তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা ৫০০ এর বেশি ‘স্কোপাস ইনডেক্স’ জার্নালে তাদের গবেষণা প্রকাশ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একটা সম্ভাবনাময় বিশ্ববিদ্যালয়। এটার প্রমাণ এই নেচার ইনডেক্সে স্থান পাওয়া। অচিরের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে স্থান পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা-গবেষণার একটা উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে যেন এখানকার সম্ভাবনাময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা বিকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারে।’

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্প্রিঞ্জার নেচারের হালনাগাদ ‘নেচার ইনডেক্স’ তালিকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থান পায়। গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ১৪৫টি উচ্চমানের ও মর্যাদাপূর্ণ পিওর সায়েন্স এবং মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র ও গবেষকদের অবদানের ভিত্তিতে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে।

নেচার ইনডেক্সের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গবেষণাপত্রে একাধিক দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিংবা গবেষক যুক্ত থাকলে সেই গবেষণার মোট অবদান ভগ্নাংশ আকারে ভাগ করা হয়। এই অংশকেই ‘শেয়ার স্কোর’ বলা হয়। মূলত এই শেয়ার স্কোরের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়।

নেচার ইনডেক্সের সর্বশেষ তালিকায় দেশের সরকারি-বেসরকারি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দুটি মেডিকেল কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত তেজগাঁও কলেজও স্থান পেয়েছে।

র‌্যাংকিং অনুযায়ী, ৩৭টি গবেষণাপত্র ও ৬.৩৯ শেয়ার স্কোর নিয়ে দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।

একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি গবেষণাপত্র ও ১.০৬ শেয়ার স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া তালিকায় থাকা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক।

চিকিৎসাবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ এবং তাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।

  • প্রধান কার্যালয়: ২৪১/১-বি (হক ট্রেডার্স), তেজকুনি পাড়া (বিজয় সরণি - তেজগাঁও লিঙ্ক রোড), তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫
    নিউজ রুম: ০১৭৪৬-৭৪৫১২৫
    প্রতিষ্ঠাকাল: ০২ এপ্রিল ২০২৪ ইংরেজি।
    ই-মেইল: pressdeskbd@gmail.com

    View all posts
Share this news with

মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১৫ পিস ইয়াবাসহ রংপুরে ডিবি পুলিশের হাতে ২ কারবারি গ্রেপ্তার

নোবিপ্রবিতে ছাত্রী সংস্থার উদ্যোগে হতে যাচ্ছে ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান

ধুনটে জামায়াত আমির: দেশের মানুষ ভালো নেই, বিদ্যুৎ-সারের সংকটে কষ্টে মানুষ

বগুড়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

শিক্ষার্থী সংকটে মুড়িয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়

সান্তাহারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে নিষিদ্ধ আ.লীগ নির্বাচনের সুযোগ পাবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ, এএসআইসহ দুজন কারাগারে

কুড়িগ্রামে বাকপ্রতিবন্ধী দম্পতির ঘরে একসঙ্গে ৩ পুত্রসন্তান, চিকিৎসায় হিমশিম

প্রাণী ও প্রকৃতির সুরক্ষায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১০

র‍্যাব বিলুপ্ত, সংসদে এসআরবি আইন অনুমোদন

১১

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করের রিট খারিজ হাইকোর্টে

১২

একটি সহানুভূতির কথাই বাঁচাতে পারে জীবন: নোবিপ্রবিতে আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের র‍্যালি

১৩

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক নেই, একক প্রার্থী চায় বিএনপি

১৪

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

১৫

বগুড়াতে হিজড়া সম্প্রদায়কে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও জনভোগান্তি: বাস্তবতা, আইন ও করণীয়

১৬

নারীকে বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাব কতটা বাস্তব?

১৭

কুবি আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতায় টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ

১৮

ডাকসুর উদ্যোগে কবি ফররুখ, আবরার ফাহাদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

১৯

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে ঢাকায় বিপিএর মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক পদযাত্রা

২০