
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘পুলিশ যদি মাদকের স্পট থেকে টাকা নেয় কিংবা থানায় জিডি বা মামলা করতে অর্থ দাবি করে, তাহলে সেই পুলিশের বিরুদ্ধে জনগণকে তথ্য দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে ওই পুলিশ সদস্যকে চাকরি থেকে বিদায় করা দেব।’
রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় বগুড়ার শাজাহানপুর থানা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ মানুষ অপরাধের সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, শান্তিপ্রিয় মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে অপরাধীদের বর্জন করে, তাহলে তারা সমাজে টিকতে পারবে না। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস, আর জনগণের সমর্থন থাকলে সব ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব।
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের সুস্থ রাখতে হবে। কিন্তু মাদক সেই প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। অনেক সময় থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকায় মাদক ব্যবসার তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছায় না।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, প্রতিটি জেলায় মাদক কারবারির তালিকা তৈরিসহ মাদক কারবারিরা মানি লন্ডারিং করছে কি না, অন্য কোনো ব্যবসা আছে কি না সেই তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের অপরাধ দমন ইউনিট (সিআইডি) কাজ করছে।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী এক নম্বর এজেন্ডা ছিল আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন। সেই আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য পুলিশ নিরাপদ পরিবেশ তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনী দীর্ঘ ১৭ বছরে জনগণের সঙ্গে অন্যায়–অবিচারের কারণে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই জনগণের আস্থা ফেরানোর জন্য বগুড়া থেকেই কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। ২০ কোটি মানুষের জন্য পুলিশ আছে ২ লাখ ১৫ হাজার। প্রতি ৯০০ মানুষের সেবার জন্য পুলিশ আছে ১ জন। ১ জন পুলিশের পক্ষে কি ৯০০ মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব? এ জন্য কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে। বিগত আমলে কমিউনিটি পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে। মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁরা এমন কমিউনিটি পুলিশ চান না। জনবান্ধব কমিউনিটি পুলিশিং চান।’
২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে পুলিশের ৬০০ গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘পুলিশের ওপর জনগণের ক্ষোভ থাকতে পারে, আক্রোশ থাকতে পারে; কিন্তু পুলিশ তো দেশের সম্পদ নষ্ট করেনি। অথচ পুলিশের অনেক সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে। পুলিশের সামর্থ্য ২০ শতাংশ কমেছে। পুলিশের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার জন্য এক হাজার নতুন গাড়ি প্রয়োজন। পর্যায়ক্রমে পুলিশের জন্য নতুন গাড়ি কিনতে হবে।’
এর আগে আইজিপি শাজাহানপুর থানা পরিদর্শন করেন এবং থানা প্রাঙ্গণে একটি দারুচিনি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, রাজশাহী আরআরএফের কমান্ড্যান্ট দ্বীন মোহাম্মদ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শহীদ আবু সরোয়ার, বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ এবং শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবালসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন