
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বগুড়ার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। জেলার ছোট-বড় প্রায় শতাধিক পশুর হাটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। হাটজুড়ে এখন ঈদের আমেজ, প্রাণচাঞ্চল্য আর দরদামের ব্যস্ততা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষক ও খামারিরা তাদের লালন-পালন করা গরু, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে আসছেন হাটে। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পছন্দের পশু কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। দরদাম শেষে সামর্থ্য ও পছন্দ অনুযায়ী পশু কিনে সন্তুষ্টি নিয়েও ফিরছেন অনেকে।
তবে হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসিলের নামে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি চাঁদা আদায়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত হার উপেক্ষা করে জেলার প্রায় সব পশুর হাটেই গরু ও ছাগলপ্রতি অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী পশুর হাটে হাসিলের নির্দিষ্ট হার রয়েছে। গরু, মহিষ ও বড় পশুর ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত হার এবং ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে কম হার আদায়ের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম পশুর হাটে বিভিন্ন জাতের দেশি ও বিদেশি গরু নিয়ে সাজানো হয়েছে হাট। প্রতি গরু বিক্রিতে ক্রেতার কাছ থেকে এক হাজার টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ একটি গরুতেই মোট এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত হারের তুলনায় এটি কয়েকশ টাকা বেশি।
ছাগলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতি ছাগলে ক্রেতার কাছ থেকে ৫০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান পশুর হাটেও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে গরুপ্রতি নির্ধারিত ৮০০ টাকার পরিবর্তে ক্রেতাদের কাছ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ছাগল-ভেড়ার ক্ষেত্রেও একইভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও হাটে পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ রয়েছে। ফলে পছন্দমতো পশু কিনতে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। অন্যদিকে খামারিরাও ভালো দামের আশায় হাটে তুলছেন পশু।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বগুড়ার পশুর হাটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জমে উঠছে কেনাবেচা, সরগরম হয়ে উঠছে হাটের পরিবেশ। শেষ সময়ের বেচাকেনাকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও খামারিদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। ঈদের আগ মুহূর্তে হাটগুলোতে কেনাবেচা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন