
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আদমদীঘি উপজেলায় পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা (টোল) আদায় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে নির্ধারিত খাজনার তালিকা প্রকাশ করে তা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার আদমদীঘি, নসরতপুর, সান্তাহার, শাওইল, কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুরসহ বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাজনার মূল্য তালিকার চার্ট টাঙানো হয়। একই সঙ্গে হাট ইজারাদারদের অতিরিক্ত খাজনা আদায় না করতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। ফলে নির্ধারিত খাজনা তালিকা প্রকাশে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি কমবে এবং হাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর কোরবানির পশুর হাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি খাজনা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে অতীতে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এবার আগেভাগেই কঠোর অবস্থান নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা। প্রশাসন নির্ধারিত টোল তালিকা অনুযায়ী, ১লাখ টাকা বা তার বেশি মূল্যের বড় গরুর জন্য খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টাকা। ১ লাখ টাকার নিচে মূল্যের ছোট গরুর জন্য ৬০০ টাকা। প্রতিটি মহিষের জন্য ১হাজার টাকা। প্রতিটি ঘোড়া ৫০০ টাকা, খাসি, ছাগল ও ভেড়াসহ ছোট পশুর জন্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে পশু ক্রয় করতে এসে ক্রেতাদের অতিরিক্ত টোল নিয়ে হয়রানির শিকার হতে হবে না বলে আশা করছে প্রশাসন।
আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, পশুর হাটে নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন