
নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে।
আজ (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।
ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে ইউনিয়ন কমিটি এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে এবং উপজেলা কমিটি তা পুনরায় যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে।
পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের মধ্যে ৪৭ হাজার ৭৭৭টির তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ (ডাবল ডিপিং), সরকারি চাকরি বা পেনশনসহ বিভিন্ন কারণে বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলো পাইলটিং পর্যায়ে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।
সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় নগদ ভাতার পাশাপাশি সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
মন্তব্য করুন