
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ৩ নং তিলাই ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভার্নারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে বিনামূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার আনন্দ সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকারের এই বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৩ নং তিলাই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৩ হাজার ৮৩০ জন দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের কার্ডধারী পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে উচ্চমানের চাউল বিতরণ করা হচ্ছে। সকাল থেকেই কার্ডধারী নারী-পুরুষেরা সুশৃঙ্খল লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের চাউল সংগ্রহ করেন।
চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত ছিলেন ৩ নং তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম। এছাড়াও সার্বিক প্রক্রিয়া তদারকি করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ফিল্ড অফিসার) জাহাঙ্গীর আলম।
বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) মনোনীত প্রতিনিধি, ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর বারেকসহ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যবৃন্দ।
চাল বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক বিষয়ে তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের এই খাদ্য সহায়তা যাতে প্রকৃত গরিব ও অসহায় পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছায়, আমরা প্রথম থেকেই সেই চেষ্টা করে আসছি। প্রতিটা ওয়ার্ডে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে তালিকা যাচাই-বাছাই করে এই চাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই তাদের প্রাপ্য উপহার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছি।”
এ সময় তিনি কার্ডধারী এবং স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারি এই সাহায্য শুধুমাত্র অসহায় পরিবারগুলোর ঈদের আনন্দের জন্য। এই চাউল যেন কোনো অবস্থাতেই কোনো অসাধু ব্যবসায়ী বা ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করা না হয়। যদি চাউল কেনাবেচার বা কোনো ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আমরা প্রশাসনের কঠোর সহযোগিতা নেব এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে চাল নিতে পেরে এলাকার দুস্থ পরিবারগুলোর মাঝে ঈদের আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নজরদারির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই চাল বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
মন্তব্য করুন