
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যেন এক নিঃশব্দ ছবিতে পরিণত হয়েছে। যেখানে সারাবছর শিক্ষার্থীদের কোলাহল আর পদধ্বনিতে মুখর থাকে সেই সবুজ ক্যাম্পাস এখন প্রায় জনশূন্য। গাছের পাতায় হাওয়ার শব্দ আর পাখির ডাক ছাড়া আর তেমন কিছুই শোনা যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মূল ছুটি নির্ধারিত। এর সঙ্গে ১৬-১৭ অক্টোবর ও ২৩-২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে টানা নয় দিনের অবকাশ চলছে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর থেকে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
ছুটির আগের দিনগুলোতেই ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের ঢল নেমেছে বাড়ি যাওয়ার। অনেকদিন পর বাড়ি যেতে পেরে শিক্ষার্থীরা আনন্দিত, আবার কেউ কেউ পরীক্ষার চাপ বা গবেষণার কাজ নিয়ে ক্যাম্পাসেই থেকে গেছেন।
আবাসিক হলগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। রাতের বেলা হলের আলোগুলো জ্বলে থাকলেও ভেতরে প্রায় নীরবতা। ক্যান্টিন ও ছাত্র-ছাত্রীদের আড্ডার স্থানগুলোও বন্ধ। ক্যাম্পাসের রাস্তাঘাটও ফাঁকা। সাইকেল ও মোটরসাইকেলের শব্দ নেই। গাছের ছায়ায় ছায়ায় হাঁটলে মনে হয় যেন কোনো নির্জন উদ্যানে এসে পড়েছেন। পাখির ডাক আর পাতার মর্মর শব্দই এখন ক্যাম্পাসের প্রধান সঙ্গী।
প্রশাসনিক ভবনগুলোও বন্ধ। অফিসের দরজায় তালা। রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম ছুটির সময় স্থগিত থাকবে।
তবুও ক্যাম্পাসের এই নিরবতা এক ধরনের সৌন্দর্য বহন করে। শরতের আকাশ, সবুজ গাছপালা আর ফাঁকা রাস্তা মিলে এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা ও চাপের পর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো তাদের কাছে অমূল্য।
এ নিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিবু নাইডু বলেন, “পূজার ছুটিতে পুরো ক্যাম্পাস যেন জনশূন্যে পরিণত হয়েছে। বিকেল হলেই শিক্ষার্থীরা পাখির মতো ছুটে চলে আপন নীড়ে, কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউবা লঞ্চের উদ্দেশ্য । ছুটির প্রথম মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। অথচ দু-এক দিনের মধ্যেই সেই প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাস ডুবে যায় নিস্তব্ধতায়। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফিরে শিক্ষার্থীরা খুঁজে পায় একরাশ স্বস্তি ও প্রশান্তি।”
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী শেফাজ মাহমুদ বলেন “পুজোর ছুটির কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বর্তমানে প্রায় খালি ও নিস্তব্ধ হয়ে আছে। সমস্ত শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যাওয়ায় ক্যাম্পাসে এক ধরনের শূন্যতা ও ভূতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে যাওয়ার পর ক্লাস শুরু হলে ক্যাম্পাস আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এবং আগের মতো সবার সাথে দেখা ও আড্ডার সেই পরিচিত পরিবেশ ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করছি আমি৷”
বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নাদিয়া আফরিন শোভা বলেন, “পূজার ছুটি শুরু হতেই ব্যস্ত ক্যাম্পাস হঠাৎ করেই নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ থেকে মুক্তি পেয়ে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে গিয়েছে । সবাই পরিবারকে সময় দিচ্ছে। তালাবদ্ধ ক্লাসরুম আর বন্ধ ক্যান্টিনে এখন আর আগের মত কোলাহল নেই। তবে এই নীরবতা সাময়িক, ছুটির পর সকলের পদচারণায় আগের মতোই প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এই ক্যাম্পাস।”
কয়েকদিন পরই আবার ক্যাম্পাসে ফিরবে শিক্ষার্থীরা। হলগুলোতে আবার কোলাহল উঠবে, ক্যান্টিনে লাইন পড়বে, ক্লাসরুমে বক্তৃতার শব্দ শোনা যাবে। কিন্তু এখন যতক্ষণ ছুটি চলছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে এক গভীর নিরবতায় যেন প্রকৃতি নিজেই এখানে একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। পূজার এই ছুটিতে ক্যাম্পাসের এই শান্ত রূপ অনেকের মনে দাগ কেটে যাবে। কারণ শিক্ষার্থী জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর মধ্যে একটি হলো ক্যাম্পাসের এই নিরব মুহূর্তগুলোও।
মন্তব্য করুন