
বগুড়ার শেরপুর থানায় দায়ের করা শিশু মো. রাজু (৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং লাশ ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক জয়নুল আবেদীন। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাঁকে অর্থ পুরস্কার প্রদান করেছেন রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ। একই সঙ্গে গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ তাঁকে ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার আগস্ট ২০২৬’ সনদে ভূষিত করেছেন।
জানা যায়, গত ৪ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে শেরপুর থানার রড়োয়া গ্রামের মো. রফিকের একটি অটোভ্যান চুরি করে নিয়ে যায় আসামি মো. মোত্তাকিম। এ সময় ভিকটিম শিশু মো. রাজু (৯)-কে সদাই কিনে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যায় সে। পরে চুরি করা অটোভ্যানটি বিক্রির উদ্দেশ্যে আসামি মো. আব্দুল করিমের কাছে নিয়ে যায় মোত্তাকিম। অটোভ্যান চুরির ঘটনার সাক্ষী হওয়ায় শিশু রাজুকে অপহরণ করে মোত্তাকিম ও আব্দুল করিম। এরপর একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ থানাধীন গাবরগাড়ী এলাকার একটি ফাঁকা স্থানে ধানখেতের ভেতর তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে তারা।
২০২৬ সালের ৬ আগস্ট শেরপুর থানায় হওয়া মামলা নং-৬ পাওয়ার পর পুলিশ পরিদর্শক জয়নুল আবেদীন তদন্তে নেমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের শনাক্ত করেন। পরে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার, নিহত শিশুর লাশ ও চুরি করা অটোভ্যানসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
অপরাধ তদন্তে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি জয়নুল আবেদীনকে অর্থ পুরস্কার এবং বগুড়ার পুলিশ সুপার ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার আগস্ট ২০২৬’ সনদ প্রদান করেন।
ইন্সপেক্টর জয়নুল আবেদীনের এই সাফল্যে শেরপুর থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দক্ষ তদন্ত, দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এমন পেশাদারিত্ব ও আন্তরিক ভূমিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসাধারণের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
মন্তব্য করুন