
দেশের প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিকের কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা, নিয়োগপত্র, জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি এবং দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (বিবিসিডব্লিউএফ)।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘সভ্যতার কারিগর নির্মাণ শ্রমিক’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিরুল হক আমিন শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ আনোয়ার হোসাইন।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, সারা দেশে প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহুতল ভবন, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করছেন। তাদের শ্রম ও ত্যাগ দেশের উন্নয়ন ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে নির্মাণ শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এখনও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, নিয়োগপত্র ও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত।
তারা অভিযোগ করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্মাণ শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম যেমন সেফটি হেলমেট, সেফটি বেল্ট, বুট ও গ্লাভস ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয়। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন কিংবা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেই বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও অবসরকালীন ভাতা নিশ্চিত করতে পৃথক সরকারি কল্যাণ ফান্ড গঠন, জেলা ভিত্তিক বাসস্থানের ব্যবস্থা, সারাদেশের নির্মাণ শ্রমিকদের ডাটাবেজের আওতায় আনা এবং কর্মক্ষেত্রে নিহত ও আহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
১২ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য জেলা ভিত্তিক সরকারি হাসপাতাল স্থাপন, স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মস্থল পর্যবেক্ষণে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, সব ধরনের নির্মাণকাজে সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং নির্মাণ ব্যয়ের ১ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে জমা দেওয়া।
এ ছাড়া নির্মাণ শ্রমিক-সংশ্লিষ্ট শ্রম আইনের ধারাগুলো সংশোধন করে শ্রমিকবান্ধব আইন প্রণয়ন, প্রতিটি নির্মাণ শ্রমিককে গ্রুপ বিমার আওতায় আনা এবং সরকারি ছুটির সুবিধা কার্যকর করার দাবিও জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নির্মাণ শ্রমিকদের অমানবিক ও অনিরাপদ জীবনের অবসান ঘটাতে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নির্মাণ শ্রমিকদের মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। মানববন্ধনের পর পর্যায়ক্রমে সারাদেশে স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ সমাবেশসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন রনি, আ. স. ম. জাকারিয়া, ইসরাফিল হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, শুকুর আলী, হাজী হাফিজুর রহমান ও দীপক চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সুরাইয়া জেসমিন রুমা ও হুমায়ন কবিরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন