
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে ডাকাতির সময় এক মা ও তার স্কুলছাত্রী মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের আলোচিত ঘটনায় কথিত মূলহোতা জিসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে ঘটনার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের বটতলী এলাকা থেকে জিসানকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকার এক প্রবাসীর বাড়িতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
ডাকাতদলের সদস্যরা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতির একপর্যায়ে বাড়িতে থাকা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক, ক্ষোভ ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পরপরই পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রেজাউল করিম, তোফাজ্জল হোসেন, কেফায়েত হোসেন, মোহাম্মদ তানজিদ, মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ তারেক।
সর্বশেষ কথিত মূলহোতা জিসান গ্রেপ্তার হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মাসুদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার জিসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন