
বগুড়ার ধুনটে প্রবাসী শাহাদত হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ও দুই মানবপাচারকারী (আদম ব্যবসায়ী) বলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ফাঁসির দাবিতে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের জোড়শিমুল গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ধুনট থানার সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেন।
নিহত শাহাদত হোসেনের বাবা জামাল আকন্দ অভিযোগ করেন, গত ২৪ জানুয়ারি কান্তনগর গ্রামের মাহমুদুল হোসেন ও শেরপুরের ঝাজর গ্রামের দুলাল উদ্দিন ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে গাড়িচালকের চাকরির আশ্বাস দিয়ে শাহাদতকে সৌদি আরবে পাঠান। সেখানে গিয়ে তিনি প্রতিশ্রুত চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন।
শাহাদতের মা শাহানাজ বেগম বলেন, ছেলের দুরবস্থার কথা জানার পর তিনি মাহমুদুলের কাছে ভালো কাজের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ধুনট থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগটির তদন্তভার পান এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।
শাহাদতের স্ত্রী কাজুলী আক্তারের দাবি, তদন্তের সময় এসআই মোস্তাফিজুর রহমান তার মোবাইল নম্বর নিয়ে পরে ফোনে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার স্বামীকে বিদেশে গুম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই শাহাদত নিখোঁজ হন এবং পরে তার মৃত্যুর খবর আসে। এ ঘটনায় ভাইরাল হওয়া একটি কল রেকর্ডের পর গত ৬ জুলাই এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে ধুনট থানা থেকে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়।
কাজুলী আক্তারের অভিযোগ, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ও দুই অভিযুক্ত মানবপাচারকারীর যোগসাজশে সৌদি আরবে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে শাহাদতের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর দাফন সম্পন্ন করে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানায় যান। পরে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। এছাড়া অভিযুক্ত মাহমুদুল ও দুলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
মন্তব্য করুন