
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার।
ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নতুন সরকারের পাঁচ মাসেই জনদুর্ভোগ বেড়েছে এবং মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তার দাবি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট দেশের ওপর চেপে বসেছে।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় গ্যাস না থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে এবং নারীরা রান্নার সামগ্রী নিয়ে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করছে। একদিকে গ্যাসের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদন কমছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাক, সার ও ইস্পাত কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের সংকটে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং প্রকৃত ব্যবহার না হলেও অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত বা ‘ভুতুড়ে বিল’ আদায় করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ তদন্তে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
দ্রব্যমূল্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাল, ডাল, চিনি, কাঁচা মরিচ ও আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনদুর্ভোগ নিরসনের পরিবর্তে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
তিনি সরকারের প্রতি গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ এবং শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দলীয়করণের পরিবর্তে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যেন জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
মন্তব্য করুন