
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গোলাবাড়ি বাজারের একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে মো. হাবিবুল্লাহ (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দোকান থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত হাবিবুল্লাহ পান্টি ইউনিয়নের আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি আদম ব্যবসার পাশাপাশি পান্টি গোলাবাড়ি বাজারে একটি ফার্নিচারের দোকান পরিচালনা করতেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত বুধবার থেকে হাবিবুল্লাহ নিখোঁজ ছিলেন। তার মোবাইল ফোন চালু থাকলেও তিনি কোনো ফোনকলের জবাব দিচ্ছিলেন না। কয়েকদিন ধরে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার সন্ধান পাননি। শনিবার দুপুরে দোকান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা দোকানের ভেতরে গিয়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহতের ওপর ঋণের চাপ ছিল। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি সামনে এলেও মরদেহ অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, ব্যবসায়ীর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন