
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জন্য ফিস্ট মিলের আয়োজন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেসে থাকা অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ হলের বাইরে মেস বা বাসায় থেকে পড়াশোনা করলেও এ ধরনের আয়োজনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ফিস্ট মিলের আয়োজন করা হয়েছে। তবে হলের বাইরে অবস্থানরত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের এ আয়োজনের আওতায় রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মেস শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী হলের সিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেস বা বাসায় থেকে পড়াশোনা করছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিশেষ আয়োজন করা হলে আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।
তাদের প্রশ্ন, আবাসিক হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য কেন একই ধরনের ফিস্ট মিলের আয়োজন করা হবে না? শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “একজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী হলের সিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিজের খরচে মেস বা বাসায় থাকেন। ফলে হলের আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তাকে অতিরিক্ত আবাসন ব্যয়ও বহন করতে হয়। এর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফিস্ট ও আয়োজনে যদি শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়, তাহলে তা স্পষ্টতই বৈষম্য সৃষ্টি করে।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ অর্থও যথাযথভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ থাকার পরও দায়িত্বশীলদের ব্যর্থতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বৈষম্য তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশাসন সঠিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করলে এ বৈষম্য দূর করা সম্ভব। ভবিষ্যতের ফিস্ট ও অন্যান্য আয়োজনে আবাসিক-অনাবাসিক উভয় শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে—এটাই প্রত্যাশা।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, “আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ পেয়েছি। সব হল প্রভোস্টের সঙ্গে পরামর্শ করেই পূর্বের ন্যায় এবারও একই ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো প্রোগ্রাম হলে সবার জন্য আয়োজন করা হবে কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ আয়োজনগুলোতে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য না রেখে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন