
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহা প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন উপলক্ষে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উৎসবকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও পাড়ায় ঐতিহ্যবাহী ফানুস তৈরি, রথ নির্মাণ এবং সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তরুণ-যুবকেরা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে ইতোমধ্যে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলা।
রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় উৎসব উদ্যাপন পরিষদের আয়োজনে চার দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২৫ অক্টোবর (রোববার) সন্ধ্যায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন ও ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসবের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সূচনা হবে। ২৬ অক্টোবর (সোমবার) বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও ফানুস উৎসব। ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেলে আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা, শাপলা প্রদীপ পূজা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শেষ দিন ২৮ অক্টোবর (বুধবার) বিকেলে ধর্মদেশনা, ধর্মীয় বাণী শ্রবণ ও ফানুস উৎসবের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার চত্বরে চলছে রথযাত্রার প্রস্তুতি। তরুণেরা নিজেদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে তৈরি করছেন নানা আকার-আকৃতির প্রতীকী কাঠামো ও রঙিন ফানুস। এসব আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
রোয়াংছড়ি কেন্দ্রীয় উৎসব উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক অংশৈচিং মারমা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবে হাজার হাজার বৌদ্ধভক্ত, উপাসক ও উপাসিকা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা, ফানুস উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি সবার জন্য আনন্দমুখর করে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রোয়াংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা বলেন, মহা প্রবারণা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে। একই সঙ্গে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে মহা প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে রোয়াংছড়িতে এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ধর্মীয় আচার, ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা, ফানুস উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে রোয়াংছড়িবাসী।
মন্তব্য করুন