
কৃষককে বাঁচানোর সরকারি মহৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে দিতে বসেছে আওয়ামী লীগের ধান সিন্ডিকেট। চলতি মৌসুমে বগুড়ার শেরপুরের দুই খাদ্যগুদামে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও ১৯৬০ মেট্রিক টন ধান ৩৬ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বিয়ার ছোট ভাই, বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা কর্তৃক দুই খাদ্যগুদামে কৃষকের ছদ্মবেশে প্রায় দুইশত মেট্রিক টন ধান প্রদান করে পেশাদার কৃষকদের রিজিক নষ্ট করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করে স্থানীয় খাদ্য গুদাম শেরপুর ও মির্জাপুরে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই স্থানীয় গুদাম কর্মকর্তারা নিজেদের সততার সঙ্গে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও উপেক্ষিত হয়েছে পৌর শহরের ধুনট রোডস্থ খাদ্যগুদাম। এই খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব আব্দুল আজিজ জানান, ইতিমধ্যেই তার গুদামে ১৩৯ মেট্রিক টন ধান ও ১,৪৯৩ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হয়েছে।
সংগ্রহকৃত ধানের ৮০% ধান আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে প্রদান, অন্যদিকে মির্জাপুর খাদ্য গুদামে প্রায় ৬০% ধান প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মির্জাপুরের বিষয়টি সন্দেহজনক হলেও শেরপুর খাদ্য গুদামের ঘটনাটি প্রমাণিত। এছাড়াও গোলাম মোস্তফার মতোই আরও আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা দুই গুদামকে জিম্মি করে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান করায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কৃষকের নাম ব্যবহার করে। এভাবে চলতে থাকলে কোনো এক সময় পেশাদার কৃষক তার উৎপাদিত ধান সরকারি সংগ্রহশালায় প্রদানের উদ্যোগের হলেও গুদামের জায়গা না থাকার কারণে তা বাস্তবায়নে অনেকটাই অসম্ভব।
অপরদিকে বগুড়া জেলার সুযোগ্য ডিসি ফুড ও ভারপ্রাপ্ত আরসি ফুড জনাব কাজী সাইফুদ্দিন সাহেবের নামে কতিপয় চাল ব্যবসায়ী ও মিলার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকর লেখালেখি করায় ক্ষুব্ধ সচেতন মানুষ। কেননা সুযোগ্য ডিসি ফুড সাহেব সততা, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার সহিত সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করায় অবৈধ সুবিধাপ্রত্যাশী মিলারদের আতে ঘা লাগে। যার ফলে একজন সৎ, নির্ভীক ও বিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তার সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনৈতিক আঘাত হানায় ক্ষুব্ধ সর্বস্তরের মানুষ ও বৈধ ধান-চাল ব্যবসায়ীরা।
মন্তব্য করুন